ব্যস্ততা কমছে কামারদের

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করার কথা থাকলেও ভাল নেই বন্দর থানাধীন নাসিক ২১নং ওয়াডস্থ শাহীমসজিদ এলাকার কামার সাধু ব্রজেন্দ্র কর্মকারের দিনকাল। গত বছরের তুলনায় তেমন কাজ নেই তার কামার দোকানে। ঠিক এই সময়টাই গত বছর দম ফেলার ফুসরত ছিলনা তার দোকানে। পশু কোরবানীর বিভিন্ন ব্যস্ততায় ক্রেতাদের ভীড় থাকলেও এ বছর তেমন ব্যস্ততা নাই বললেই চলে। কোরবানীর আনুসঙ্গিক হাতিয়ার দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস বানাতে তেমন বেগ পেতে হচ্ছেনা সাধু ব্রজেন্দ কর্মকারের। যেখানে গত বছর দিনরাত সমান তালে টুং টাং শব্দে মূখরিত ছিল ওই এলাকাটি। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে কোরবানির সময়টা এ এলাকার কামারদের কাজের চাপ অনেকটা বেড়ে গেলেও এবার তেমন কাজ নেই তার কামার দোকানে। সেই সঙ্গে তার আয় রোজগারও কমে গেছে। তবে আগের মত এসব জিনিস কেনার খুব একটা সারা নেই বলে জানান তিনি। বন্দরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে কোরবানির প্রতি পিছ ছুরি সাইজ ভেদে ৩৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন সাইজের চাকু ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা,বটি ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বন্দর শাহীমসজিদ’স্থ অতি প্রাচীন এই কামার সাধু ব্রজেন্দ্র কর্মকার আক্ষেপ করে জানান, ঈদের আর ক্ষণিক সময় বাকি থাকলেও এখনো এসব হাতিয়ার কেনাবেচা খুব একটা জমে উঠেনি। তিনি আরো জানান, সারা বছর যত পণ্য বিক্রি হয় এই ঈদেই বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি। কারণ পশু জবাই করার জন্য ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কামার শিল্পের প্রয়োজনীয় জ্বালানী কয়লা সহসাই দাম বেড়ে গেছে আর বেড়েছে লোহার দামও। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও সে তুলনায় কামারদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। দোকানের কারিগরদের এ মৌসুমে মোটা অংকের বেতন দিতে হয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *