কমিউনিটি পুলিশের সহায়তায় মার্কেটের সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এর কঠোরতায় যানজট এখন অনেকটাই সহনীয়। আর এর মূল কারণ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা। আর সেই ধারাবাহিকতায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেটের সামনে থেকে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। তবে কমিউনিটি পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয়রা আবারো সিএনজি স্ট্যান্ড বসিয়ে প্রতিদিন সিএনজিগুলো থেকে চাঁদাবাজি করছে। যার বড় একটি অংশ যাচ্ছে কমিউনিটি পুলিশের পকেটে। সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। এই স্থানে সিএনজি স্ট্যান্ড অবৈধ ঘোষণা করলেও প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে সাড়িবদ্ধ ভাবে সিএনজি রেখে দেওয়া হচ্ছে। আর যখন টহল পুলিশ আসছে তখন কমিউনিটি পুলিশ সৈকত আলীর ইশারায় দালাল একজন দালাল সকল সিএনজি চালককে সতর্ক করে দিচ্ছে। এতে পুলিশ আসার আগেই খবর পেয়ে যাচ্ছে সিএনজি চালকেরা। ফলে পুলিশের হাতে না পরেই দিনের পর দিন পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে স্ট্যান্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম জায়গা হচ্ছে চাষাঢ়া গোল চত্তর। শহর থেকে বাইরে যাওয়া কিংবা বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ করার জন্য সিংহ ভাগ মানুষ এই চত্ত্বর দিয়ে চলাচল করে। ব্যস্ততম এই জায়গার সমবায় মার্কেটের সামনে অবৈধ ভাবে সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় ভয়াবহ যানজট লেগে থাকতো শহরে। দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত যা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতো। ফলে ১০মিনিটের সড়ক পার হতে সময় লাগতো ৩০মিনিট বা তারো বেশি। ভয়াবহ সেই যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেয় এসপি হারুন। গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গায় সিএনজি স্ট্যান্ড অবৈধ ঘোষণা করে তা উচ্ছেদ করেন তিনি। এবং সার্বক্ষনিক পুলিশের টহল অব্যাহত রাখেন যাতে আবারো সিএনজি স্ট্যান্ড স্থাপন করে শহরে যানজট তৈরী করা না হয়। তবে পুলিশ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কমিউনিটি পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে কতিপয় কিছু স্থানীয়রা এখানে আবারো স্ট্যান্ড স্থাপন করছে। যে কারণে আবারো তৈরী হচ্ছে যানজট। এতে করে আবারো ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ নগরবাসী। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, এখানে প্রত্যেকবার যখন আসি তখন স্থানীয় দালাল আমাদের থেকে ২০টাকা করে নেয়। টাকা না দিলে এখানে বসতে দেয় না। যখন পুলিশ আসে তখন ও আমাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে। ওর কারণে এখানে বসতে পারি তাই সবাই টাকা দেয়। তিনি আরো বলেন, শুধু দালাল একাই টাকা খায় না। কমিউনিটি পুলিশও এসে আমাদের থেকে টাকা নিয়ে যায়। যখন যা প্রয়োজন তখন তদাই নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে পুলিশ ধরলে তারা এসে আমাদেরকে ধমকিয়ে বকাঝকা করে ছাড়িয়ে দেয়। যেহেতু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আছে তাই তাদেরকে ম্যানেজ করেই চলি। তবে কমিউনিটি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলেও কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি পুলিশ এর সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম। তিনি জানান, কমিউনিটি পুলিশ জেলা পুলিশ প্রশাসনকে সাহায্য করে। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে তারা আমাদেরকে জানান আর আমরা কমিউনিটি পুলিশ পাঠাই। প্রশাসনের নির্দেশেই তারা চলে। কমিউনিটি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলেও আমাদের কিছু করার নেই। যদি পুলিশ প্রশাসন আমাদের সাথে আলোচনা করে। এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাহলে কিছু করতে পারব এছাড়া করতে পারব না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *