পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটির মূল দল ও সহযোগি সংগঠনের আহবায়ক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও কাজে কর্মে অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে। দলীয় কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত সফলতা দেখাতে পারেনি কোন কমিটি। যেকারণে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হলেও কাজে কর্মে অপূর্ণতায় পরিপূর্ণতার প্রমাণ মিলছে। যেকারণে বিএনপি সাংগঠনিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে রাজনীতিতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলকে চাঙ্গা করে সাংগঠনিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করে তুলতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর আহবায়ক কমিটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করা হয়। সেই মোতাবেক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হলেও সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। অপূর্ণতা থেকেই যায়। তাই রাজনীতিক দিক দিয়ে দলের অবস্থান একেবারে তলানিতে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি দুটো দীর্ঘ দুই বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকমাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে দলীয় কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি নিষ্ক্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছে এই সংগঠনের নেতারা। তাদের ব্যর্থতার কারণে সহযোগী সংগঠনগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। জেলা ও মহানগর ছাত্রদল কমিটি পূর্ণতা পেলেও দলীয় কর্মসূচিতে বারবার অপূর্ণতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তবে জেলা ছাত্রদল কমিটি সফলতার ঝুড়িতে কিছু কুড়াতে না পারলেও ব্যর্থতা ঠিকই কুড়িয়েছে। উল্টো নানা কারণে সমালোচিত হয়েছে। আর মহানগর ছাত্রদল বিতর্কে না জড়ালেও সফলতার কোন ছিটে ফোটাও দেখা যায়নি। তাছাড়া দলীয় কর্মসূচিতে তাদের ব্যর্থতা বারবার ফুটে উঠেছে। গত ২৪ মার্চ জেলা যুবদলের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগের দিন ২৩ মার্চ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সাক্ষরে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণার করলেও ৫ এপ্রিল তা নারায়ণগঞ্জ মহানগরের নেতাদের হাতে এসে পৌছে। ৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৬১ বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এর আগে ৭ আগস্ট কমিটির অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে আবুল কাউসার আশা, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাখাওয়াত হোসেন রানাকে ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে অহিদুল ইসলাম ছক্কু। কমিটিতে ১৬ জন সহ সভাপতি, ৭ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৪ জন সহ সম্পাদক, ৮ জন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭৫ জন বিভিন্ন সম্পাদক ও সহ সম্পাদক এবং বাকি ৩৬ জনকে সদস্য করা হয়েছে। জানাগেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হামলা, মামলা, জেলা, জুলুমের কারণে বিএনপি একেবারে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। তবে নির্বাচনে দলটির ভরাডুবির পর দলকে চাঙ্গা করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমিটি করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যেকারণে ব্যর্থতা তাদের পিছু ছাড়েনি। এভাবে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর অধিকাংশই আহবায়ক থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। কিন্তু যেই লক্ষ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে তার ছিটে ফোটাও চোখে পড়ছেনা। মূলত দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে দলকে শক্তিশালী করে তুলতেই কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হয়। তবে মাঠের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ক্ষমতাসীন ও পুলিশ প্রশাসনের চোখ রাঙানি মিইয়ে গেলেও বিএনপি কিছুতেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা। ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা সক্রিয় হতে পারছেনা। উল্টো নিষ্ক্রিয়তার তলানিতে অবস্থান করছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *