এসপি হারুনের যেমন কথা তেমন কাজ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পরপরই ভূমিদস্যু, মাদকব্যবসায়ী, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তার জিরো টলারেন্স নীতির কথা ঘোষণা করেন। একই সাথে সমাজে যে কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন বলে কাজ শুরু করেন। যেই কথা সেই কাজ। পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে গেলো ৮ মাসে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রভাবশালী ৪ কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  যার দরুণ এসপি হারুনের ৮ মাসের অভিযানে নাসিকের ৪ কাউন্সিলর শ্রীঘর দর্শন করেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে নগরীর দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদ কমিটি ও মসজিদের জমাকৃত টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২০/২৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবীর হোসাইন এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক  কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২ জনকে গ্রেফতর করে পুলিশ।  সংঘর্ষের পর কাউন্সিলর কবীর হোসাইন ও কামরুল হাসান মুন্নার পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাটি সাবেক ও বর্তমান দুই কাউন্সিলরের মধ্যকার বিশৃঙ্খলার কারণে ঘটলেও এরপর আরো গুরুতর অভিযোগ ওঠে নাসিকে আরেক কাউন্সিলরের উপর। কাউন্সিলর ডিসবাবু চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়। ১৭ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় প্রবাসী কালু মিয়ার বাড়ির সামনে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি (৩৪৯) সেলিনা ইসলামের গাড়ি ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপরদিন ১৮ জুলাই বিকেল ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৪৪) দায়ের করেন এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সোহেল। এই মামলায় বেশ কয়েকদিন কারাগারে থাকার পর জামিন পান কাউন্সিলর সাদরিল। এবার মারামারি কিংবা ভাঙচুরের কোন ঘটনা নয়। নাসিকের এক কাউন্সিলরকে মাদকসহ হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১ আগস্ট রাতে শহরের নবীগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকা নাসিক ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি সাইফুউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান ও তার ৪ সহযোগীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ও তাদের বহনকারী মিনি হায়েচ গাড়ি তল্লাশি করে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশের দাবি জিজ্ঞাসাবাদে মূল আসামী কাউন্সিলর দুলাল প্রধান স্বীকার করেছে, একজন কাউন্সিলর এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক এই পরিচয়ের আড়ালে সে এবং তার সহযোগীরা একে অপরের সহায়তায় ফেন্সিডিলের ব্যবসা করে আসতেছিল। বেশ কয়েকদিন শ্রীঘরে থাকার পর জামিন পান দুলাল প্রধান। এসপি হারুনের অভিযানে এই ৪ নাসিক কাউন্সিলর শ্রীঘর দর্শন করলেও স্বস্তিতে নেই নাসিকের আরো বেশ কিছু কাউন্সিলর। ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসায় প্রশ্রয় দেয়া, চাঁদাবাজিতে মদদ থাকাসহ আরো বেশ কিছু অভিযোগ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ পড়েছে ইতিমধ্যে। যে কোন সময় আরো কয়েকজন কাউন্সিলরও পুলিশের অভিযানে আটক কিংবা গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *