নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রবাজদের তালিকা প্রস্তুত ইতিমধ্যে অনেকে মারা গেছেন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো সন্ত্রাসের জনপদ। একসময় এই অঞ্চলে অস্ত্রেও ঝনঝনানিতে তটস্থ ছিলো সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও হতো গোলাগুলি, হত্যাকা-ের ঘটনাও কম ঘটেনি। তবে কালের বিবর্তনে এখন আর সে অবস্থা নেই। অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই ‘বন্দুকযুদ্ধ’, প্রতিপক্ষের হামলায় কিংবা অজ্ঞাত আঁততায়ীদের হাতে খুন আবার কেউ পালিয়েছে দেশ ছেড়ে। তবে, তাদের ব্যবহৃৎ অস্ত্রগুলো কিন্তু উদ্ধার হয়নি। হাত বদল হয়ে তাদেরই কোনো না কোনো শিষ্যর কাছে সেসব রয়ে গেছে। সূত্র বলছে, মমিনউল্লাহ ডেভিড, জাকির খান, অগা মিঠু, সুইট, আসলাম, টাওয়ার সেলিম, কামরুজ্জামান কামু, মিনিস্টার শাহ আলম, জাফর, রেকতম, তোফাজ্জল, মেছের, ভাগিনা ফরিদ, নিয়াজুল, মাকসুদ, লাল, নূর হোসেন, ক্যাঙ্গারু পারভেজ, বন্দুক শাহিন, হাসান আহমেদসহ এমন আরও অসংখ্য ব্যক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি ব্যবহার করেছেন অসংখ্য অবৈধ অস্ত্র। যা দিয়ে তারা স্ব স্ব এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ‘বন্দুকযদ্ধে’ কিংবা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার কেউ কেউ পলাতক জীবন যাপন করছেন বহু বছর ধরে। কিন্তু তারা কেউই তাদের এবং তাদের নিজস্ব বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র কবরে কিংবা দেশের বাইরে নিয়ে যায়নি। এমনকি সেসব অস্ত্রের মধ্যে গুটি কয়েক উদ্ধার হলেও তাদের ব্যবহৃত অসংখ্য অস্ত্রই উদ্ধার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র হাত বদল হয়ে তাদেরই শিষ্যদের কাছে রয়ে গেছে। সেসব অস্ত্রের সাথে নতুন নতুন অস্ত্রও যুক্ত হচ্ছে সেসব সন্ত্রাসীদের হাতে। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে এখনও গত হওয়া সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের অনেকটা এখনও সুরক্ষিত রয়েছে। এদিকে কখনো কখনো পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের আটকও করা হয়। তারপরও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন মহলের মতে, পূর্বে যেভাবে অবাধে অস্ত্রের ব্যবহার হতো তার তুলনায় উদ্ধার চলমান অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কিছুই না। তাই প্রশ্ন উঠে, পূর্বের সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো গেল কোথায়? এদিকে পুলিশ নতুন করে অস্ত্র কারবারি, ব্যবহারকারিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এই তালিকা দেশব্যাপী হলেও নারায়ণগঞ্জের অনেকেরই নাম রয়েছে। তালিকাতে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা কোনো না কোনো ভাবে রাজনৈতিক ছত্রছায়াতেই রয়েছেন। তালিকা যাচাই বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে জোড়ালো অভিযানে নামার ইংগীত দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন থেকে। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের কাছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদ বলেছেন, ‘অস্ত্রবাজদের ধরতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকায় যারা অস্ত্রবাজ হিসেবে পরিচিত তাদের তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকায় অনেক রাঘববোয়ালের নাম আছে। কাউকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *