ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাতে না’গঞ্জ বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
গত ১৫ আগস্ট ছিলো খালেদা জিয়ার কথিত জন্মদিন। তবে, বিতর্ক এড়াতে ১৫ আগস্টের পরিবর্তে ১৬ আগস্ট জন্মদিন পালনের কর্মসূচি হাতে নেয় বিএনপি। যা জেলাজুড়েই পালন করার কথা। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলো নারায়ণগঞ্জ। এখানকার বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন কর্মসূচি পালনে দেখিয়েছে অনিহা। কোথাও পালন হয়নি কেন্দ্র ঘোষিত খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী। এতে করে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার প্রতি মায়া, মমতা কিংবা কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ পর্যন্ত নেই এখানকার বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের। ফলে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী কেউ পালন করেনি। সূত্র বলছে, শুধু জন্ম বার্ষিকী কেন, খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর থেকে আজও পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিও করতে পারেনি জেলা ও মহানগর বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচিগুলোতে হাতে গোণা দুই একজন লোকজন নিয়ে কোনো রকম ফটোসেশন করেই কর্মসূচি পালনের দায়িত্ব শেষ করেন তারা। তাদের অভিযোগ পুলিশ বাধা দেয় তাই তারা সেভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারেন না। তবে, কর্মসূচি পালনে এখানকার নেতাকর্মীরা সাহস দেখাতে না পারলেও নিজেদের মধ্যে কোন্দল নিয়ে প্রায় সকলেই এক একজন বাঘের রূপ ধারণ করেন। লড়াই-ঝগড়া করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। পাশাপাশি দল গোল্লায় গেলে গোল্লায় যাক কিন্তু নিজেদের আখের গোছাতে বেশ তৎপর এখানকার বিএনপি নেতারা। ফলে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য ঠিক রাখতে গোপনে এবং প্রকাশ্যেই ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে চলছেন দিব্যি। আঁতাতের মধ্যে অন্যতম হলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান মনিরুর আলম সেন্টু, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কাউন্সিলর হান্নান সরকার, কাউন্সিলর সুলতান প্রমূখ। তাদের পাশাপাশি সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতাও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত করে চলছেন। সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত থাকার কারণেই দলীয় কর্মসূচি পালনে বরাবরই পিছিয়ে থাকে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। যার কারণে এবারের খালেদা জিয়ার জন্মদিনের কর্মসূচিও তারা পালন করেনি। এদিকে খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকীতে মহানগর বিএনপি কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি না নিয়েই পুলিশ বাধা দিয়েছে অভিযোগ তুলে তাদের দায় সারতে চাইলেও জেলা বিএনপির অস্তিত্ব কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সহযোগি সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই কর্মসূচি পালন করছে কোথাও এমন কোনো সংবাদও পাওয়া যয়নি। এ নিয়ে তৃণমূলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *