না’গঞ্জে বিএনপি টিকে থাকা দুস্কর!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
জাতীয় নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর রাজপথের কর্মসূচিতেও কেন্দ্রের তেমন আগ্রহ না থাকায় দেশের চলমান রাজনীতিতে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে নেতারা যে যার মত বিভিন্ন পেশায় নিজেদের অবস্থান তৈরী করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। কেউ ক্ষমতাসীনদের সাথে হাত মিলিয়ে আবার কেউবা অঘোষিত অবসরে গিয়ে পিঠ বাচিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও সক্রিয় হতে দেখা যায়না দলটির নেতাদের সবমিলিয়ে রাজনৈতিক এই দলটি নারায়ণগঞ্জে টিকিয়ে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দলের এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একদিকে ক্ষমতাসীনদের চাপ অপরদিকে নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কর্মসূচী গুলোও এখন ঐচ্ছিক বিষয় পরিনত হয়েছে। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচি সফল করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের নেতাকর্মীদের আশা পূরণে এ পর্যন্ত কোনো বড় কোন ভূমিকা রাখতে না পারায় আস্থার সংকটে পড়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। আর এ কারনে নেতাদের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বেশ কিছু সিনিয়র নেতারা যেখানে টানা আন্দোলন চান সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা নিজেদের স্থির রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত একাধিক বার খালেদা জিয়ার মুক্তির কর্মসূচী আসার আশ্বাস দিলেও কার্যত তা আলোর মুখ দেখেনি। মাঝে মধ্যে কিছু জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে কাজ করলেও তাতে কর্মীদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। আর এই কারণে কর্মসূচী দিয়েও মাঠে কর্মীদের মাঠে নামাতে ব্যার্থ হচ্ছে বিএনপি। ক্রমশই তলানির দিকে চলে যাওয়া অবলৌকন করলেও এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তারা। তৃণমূলের পর্যায়ের কর্মীরা বলছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। রাজনীতি করলে সেটির ধারা অব্যাহত রাখা লাগে। থেমে থেমে কর্মসূচি পালন করলে তাতে কর্মীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব না থাকায় তারা আরও পিছপা হয়েছেন। নেতারাই যেখানে দল ছেড়ে নিজেকে নিয়ে ব্যাস্ত সেখানে কর্মীরা দলছাড়া হবে এটিই স্বাভাবিক। সংশি¬ষ্টরা বলছেন, রাজনীতিতে বিএনপির অনীহা নতুন নয়। ক্ষমতার পালাবদলে যখন বিএনপি বেকায়দায় তখনও দলের অভ্যন্তরে সক্রিয়দের অবমূল্যায়িত করা হয়। নিস্ক্রিয়দের দেয়া হয় দলের গুরুত্বপূর্ন আসন। একের পর এক কমিটি বাণিজ্য আর লিয়াজো করে নেতৃত্ব তৈরী করার ফলে দলের নেতাকর্মীরা রাজনীতি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *