না’গঞ্জে ১৩ দিনে সাত খুন জনমনে আতঙ্ক

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে সহিংসতা ও খুনের ঘটনা। মাদক ও পারিবারিক বিরোধ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটছে এসব খুনের ঘটনা। গত ১১ আগস্ট থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত তেরদিনে এক নারীসহ ৭টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। ১১ আগস্ট থেকে ১২ আগস্টে একদিনে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার সদর উপজেলায় খুন হয়েছে দুইজন। নিহতদের মধ্যে একজন মাদক কারবারি অন্যজন ভাংগারি দোকানের কর্মচারী। সূত্র মতে, ১১ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের পূর্ব দেলপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে জুম্মন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ শিবিরের লোকজন। নিহত জুম্মন রঘুনাথপুরের কাইয়ূমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ সুমন খান ও রাসেল হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে জুম্মন হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৃশংস খুনের শিকার হন রাকিব নামে এক ভাংগারি দোকানের কর্মচারি। একই ইউনিয়নের পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় এদিন ভোরে দুর্বৃত্তরা তাকে প্রকাশ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে। নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার নয়াপাড়ার নড়িয়ায়। সে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় কাদিরের ভাঙ্গারির দোকানের কর্মচারি। অন্যদিকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে সুমাইয়া আক্তার বর্ষা নামে এক তরুণী গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান। ১৯ আগস্ট রাতে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়ার আলী সাহার্দী এলাকায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। বর্ষা রাজধানীর দনিয়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর ভূইয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় মঞ্জুর ভূইয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘাতক স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ২১ আগস্ট কুতুবপুরের পূর্ব শাহী মহল্লায় আবুল কালাম (৫০) নামে এক নৈশ প্রহরীকে গলাকেটে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ভোরের দিকে ফতুল্লা মডেল থান পুলিশ এমএ মতিনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার চাতপাশা গ্রামের মৃত. আব্দুল গনি ঢালির ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ফতুল্লার শাহীবাজার এলাকার আলাউদ্দিন ডাক্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন এবং একই এলাকার হান্নানের নির্মাণাধীন বাড়িতে ৯ হাজার টাকা বেতনে নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এদিকে ২২ আগস্ট সোনারগাঁ উপজেলার মল্লিকপাড়া এলাকার বায়তুল জালাল জামে মসজিদের ভেতর থেকে দিদারুল ইসলাম নামে একই মসজিদের ঈমামকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তাকে হত্যার পর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছন্ন করে ফেলে রেখে যায় ঘাতকেরা। নিহত ইমাম দিদারুল ইসলাম খুলনার তেরখাদা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত জুলাই মাস থেকে ওই মসজিদে ঈমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ২৬ জুলাই পাশ্ববর্তী ছোট কাজীরগাঁ গ্রামের মসজিদের ঈমামের পরিচয়ে এখানে এসেছিলেন। এছাড়াও গত শুক্রবার রাতে দেওভোগ তাঁতিবাড়ি এলাকায় সোলাইমান হোসেন অপু নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্ব নিয়ে এ খুন হয়ে থাকতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অপু একই এলাকার মো. রমজান মিয়ার ছেলে এবং এবং বাবুরাইলের কাশেম ডেকোরেটরের ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রী। এর আগে রূপগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাকান্দাইল এলাকায় জিসান হোসেন নামে এক স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে ও আঁচড়ে গুরুতর আহত করে বালির স্তূপের উপর ফেলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত শুক্রবার সে মারা যায়। নিহত জিসান ঢাকা জেলার সুত্রাপুর থানার ধোলাইখাল রাশাবাজার এলাকার গোপাল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় পেরাব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্র জিসান। জিসানের বাবা গোপাল হোসেন তার পরিবার নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তারা পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার মনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছেন। এদিকে হঠাৎ করে হত্যাকা- বেড়ে যাওয়াতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এরমধ্যে এসব ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরমধ্যে কুতুবপুর ও সোনারগাঁয়ে জবাই করে পৃথক দুই হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করাও সম্ভব হয়নি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *