৫নং ঘাটের ফেরীর পল্টন পানির নিচে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শীতলক্ষ্যায় ফেরি চলাচল। সেই দাবির প্রেক্ষিতে সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান হাজীগঞ্জ ঘাট ও ৫নং ঘাট থেকে হাজীগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত ফেরি চালু করেন। কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় একটি ঘাটে ফেরির পল্টুন শীতলক্ষ্যার পানিতে ডুবে গেছে। অপরটির অবস্থাও করুণ। বন্দরবাসীর স্বপ্নের ফেরি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীর আশীর্বাদে নারায়ণগঞ্জ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। নদীপথে যাতায়াত ও পন্য পরিবহণ সহজ হওয়ায় দ্রুত নদী ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাজার এবং শিল্প কারখানা। এই নদীর আশীর্বাদে অল্প সময়ে ব্যবসায়-বাণিজ্যে ফুলে ফেঁপে উঠেছে এই শহর। নদীর দুই ধারেই বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও পরবর্তিতে সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক অফিস-আদালত, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হয়ানি শীতলক্ষ্যার বুকে। ফলে ধীরে ধীরে শহর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে শীতলক্ষ্যার ওই পাড়ে থাকা বন্দরবাসী। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হচ্ছে বন্দর এলাকা। সংসদীয় এলাকা হিসেবে ১৯৮৪ সালে সদর-বন্দর আসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভাটার সংখ্যা প্রায় ৫লাখ। বিগত ৩৩ বছরে ৯টি জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে তাঁরা। ৯নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির হয়ে ৪বার ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রয়াত একেএম নাসিম ওসমান, বিএনপির হয়ে ৩বার ক্ষমতায় এসেছিল আবুল কালাম, একবার আওয়ামী লীগের হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল এসএম আকরাম। সবশেষ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে তাঁর ভাই সেলিম ওসমান। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আবারো ক্ষমতায় আসেন তিনি। দেশের প্রতিটি বড় বড় দল ক্ষমতায় থেকেও বন্দরবাসীর জন্য কোনো সুখবর নিয়ে আসতে পারেননি। সবশেষে গত বছর ২১ আগস্ট ফেরি চালু করেন বর্তমান এমপি একেএম সেলিম ওসমান। কিন্ত সেই ফেরিও এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দরবাসীর জন্য। নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ এবং ৫নং ঘাট-নবীগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত দুই জায়গায় ফেরি উদ্বোধন করলে এক বছর না পেরোতেই বন্ধ হয়ে গেছে ৫নং ঘাটে ফেরি চলাচল। অপরদিকে নবীগঞ্জ-হাজিগঞ্জ ঘাটের অবস্থাও করুণ। গতকাল রোববার সরেজমিনে ৫নং ঘাটে গিয়ে দেখা যায় ফেরির কোনো চিহ্ন নেই। গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় নদীর মাঝে দুইটি পতাকা উড়ছে যা প্রমাণ করে এখানে ফেরির পল্টুন ছিল। পল্টুন পুরোপুরি নদীতে ডুবে গেছে। পানির নিচে থাকা পল্টুনের সাথে ধাক্কা লেগে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে তাই পতাকা লাগানো হয়েছে। এছাড়া আর কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। নবীগঞ্জ ঘাটে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকলেও এর অবস্থা করুণ। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই ফেরিতে উঠার রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে এবড়ো থেবড়োভাবে ইট ফেলে রাস্তা উচু করা হয়েছে। যে কারণে ফেরিতে গাড়ি উঠাত নামতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া স্লিপ ছাড়া টোল আদায়, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ সহ নানা অভিযোগে জর্জরিত ফেরি ঘাটটি। এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ফেরির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান শেখের সাথে কখা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *