রুবেলের কর্মকান্ডে অতিষ্ট বিসিকের ব্যবসায়ীরা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বখাটে, ইতরে পাকা এ যুবকের নাম রুবেল। বয়স অল্প হলেও বিভিন্ন স্থানে করে বেড়ান হাঙ্গামা। তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ বিসিক ও এর আশপাশের এলাকাবাসী। একজন জনপ্রিয় প্রয়াত সংসদ সদস্যের পুত্রের লোক পরিচয়ে চলায় ‘সম্মানেই হোক কিংবা ভয়ে!’ কেউ মুখ খুলতে চায় না তার বিরুদ্ধে। আর এ সুযোগই নিয়েছে রুবেল ও তার বাহিনী। সম্প্রতি একটি রপ্তানীমুখী পোশাক কারখানায় চাঁদার দাবিতে হামলা করেছে তারা। মারধর করেছে কারখানাটিতে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড ও স্টাফদের। লুট করেছে টাকা। বিসিকের ইয়াংফা ইন্টারন্যাশনাল পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কিছু দিন ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল রুবেল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কারখানা বন্ধের নির্দেশ জারি করে দেয় এ বাহিনী। গত ২৭ জুলাই বিকালে একদল সন্ত্রাসী নিয়ে কারখানাটির ভিতরে ঢুকে আবারও চাঁদা চায়। দিতে অস্বীকার করলে ম্যানেজার ও সিকিউরিটি গার্ডদের এলোপাথারী মারধর শুরু করে তার এ সন্ত্রাসী বাহিনী। ট্রেবিলের ড্রয়ার ভেঙ্গে লুট করে ১ লাখ টাকা। ক্ষয়ক্ষতি করে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল। এ ব্যাপারে কারখানাটির ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করলে কিছু দিনের মধ্যেই পুলিশ আটক করে সন্ত্রাসী রুবেলকে। সম্প্রতি রুবেল জামিনে বেড়িয়ে এসেছে। জামিন পাওয়ার পূর্ব শর্ত ছিলো মালিক পক্ষের সাথে মিমাংসা করা। কিন্তু এখন উল্টো বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। বলছেন ‘ঝুট না পেলে কারখানায় তালা ঝুলানো হবে, ঢুকতে দেওয়া হবে না শ্রমিকদের।’ এদিকে, রুবেল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু মারধরই নয়, রয়েছে বিসিকের ব্যবসায়ীদের অপহরণের অভিযোগ। তার এই ভয়ঙ্কর চরিত্রের বর্ননা দিলেন সোহেল নামের অপর এক ব্যবসায়ী। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘটনা। ওই ব্যবসায়ী জানান, ডায়মন্ড নীটওয়ার নামের একটি কারখানা থেকে ফেব্রিক্স কিনে ছিলেন। পরে সেই ফেব্রিক্সই বিক্রি করেছিলেন পিন্টু নামের ২নং রেল গেট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে। ফেব্রিক্স গুলো নেওয়ার সময় ওৎ পেতে থাকা রুবেল ও তার বাহিনী। বিসিক থেকেবের হওয়ার পরই গাড়িসহ পিন্টুকে তুলে নিয়ে যায়। ভয়াবহ নির্যাতনের এক পর্যায়ে মুক্তিপন হিসেবে ৫০ হাজার টাকা বাড়ি থেকে আনিয়ে জিম্মি দশা থেকে ৫ ঘন্টা পর ছাড়া পায় রুবেল বাহিনীর হাত থেকে। পাশাপাশি সেই ফেব্রিক্স গুলো কেড়ে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দেয়। তবে, জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এ ঘটনা থানাকেও জানাতে সাহস পায়নি ওই ব্যবসায়ী। রুবেলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যপারে জানতে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি। তবে, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই-টু সাজ্জাদ রোমন জানান, কোন অপরাধীই ছাড় পাবে না। আমাদের পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশ শিল্প কারখানায় অরাজকতাকারীদের রেহাই নেই। আর এই রুবেলের বিষয়টি ফতুল¬া থানার ওসিকে আমরা জানাবো। তদন্তে করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাসনগাঁয়ের ফসিউদ্দিন দেওয়ান ওরফে ফইস্যার ছেলে রুবেল। নিজেকে প্রয়াত সংসদ সদস্যের পুত্রের লোক পরিচয় দিয়ে বিসিকে দাবড়িয়ে বেড়ায়। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা তোলা ও জোর পূর্বক ঝুট নামানোর পায়তারা করে। এলাকাবাসীর দাবি, সে বিসিক এলাকায় মাদক বিক্রির সাথেও জড়িত। শাসনগাঁও এর ভাঙ্গাক্লাব তার অঘোষিত আস্তানা। তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. রনি (৩০), বাম হাত আব্দুর রবের ছেলে হাসান। এলাকাটিতে এ তিন জনের নেতৃত্বে রয়েছে আরো শতাধিক সন্ত্রাসীর একটি বাহিনী।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *