আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট অভিযোগে মেয়র ডিসিসহ ১০ জনকে আদালতের সমন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শহরের রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউটের ভবন ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিনসহ ১০ জনকে নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত। বিবাদীদের আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর স্বয়ং উপস্থিত হয়ে অথবা উকিলের মাধ্যমে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ভবনের দোকানদারদের করা একটি ভায়োলেশন মামলায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মো: শাকিল আহমেদ এ নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নোটিশ প্রাপ্ত বাকীরা হলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর, সমাজ সেবা কার্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউটের এডহক কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশু, আ: সাত্তার ও নুরুল ইসলাম। এদিকে নোটিশ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিইও এহতেশামুল হক বলেছেন, নোটিশ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুম বিল্লাহ বলেন, নোটিশ এখনো হাতে পাই নাই, আদালত থেকে এখনো পৌছায়নি। যদি পৌছায় তাহলে আমরা জবাব দেবো। আদালতের নিদের্শনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। মামলার বাদী দোকান মালিকরা হলেন বাবুল আহমেদ, লাল মিয়া, জীবন সরকার, মহিউদ্দিন আহমেদ, রিপন পারভেজ, আবুল কালাম ঢালী, রিনা আহমেদ, দুলাল মিয়া, বিমল চন্দ্র সূত্রধর, তাইবা আহমেদ, জসিমউদ্দিন খান, মিয়া খালেকুজ্জামান ও তপন কান্তি পাল। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ভবনের দোকান মালিকরা সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীসহ তৎকালীণ এডহক কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। কিন্তু গত ২০ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ভবনটি গুড়িয়ে দেয়। এবার দোকান মালিকরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে একটি ভায়োলেশন মামলা দায়ের করে। সে মামলায় সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসকসহ ১০ জনকে নোটিশ প্রদান করেছে আদালত। প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট সংলগ্ন রহমতউলল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াত আইভীর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পাল। হঠাৎ ভবনটি ভেঙে দেওয়ায় ওই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। এসময় ঘটনাস্থলে অনেককে কান্না করতে দেখা গেছে। ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে নাসিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। কিন্তু মামলার কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। সম্প্রতি নাসিকের পক্ষে মামলার রায় আসায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় নাসিক। ব্যবসায়ীরা জানায়, তিনতলাবিশিষ্ট ভবনটিতে কনফেকশনারি, ফ্রিজ, এসি, সেলাই মেশিন, টেইলার, সুতা, রাবারের দোকানসহ প্রায় ৩৫টি দোকান ছিল। প্রতিটি দোকানেই লাখ টাকার পণ্য ছিল। ব্যবসায়ীদের দাবি তাদের কোনো সময় দেওয়া হয়নি। সকাল বেলা ভবন ভাঙার জন্য এক্সভেটার নিয়ে এসে সরাসরি ভাঙা শুরু করে। ব্যবসায়ীরা কোনো মালামাল সরাতে পারেননি। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *