পলিথিনে জলাবদ্ধায় দুর্ভোগে ফতুল্লাবাসী

সোহেল রানা, ফতুল্লা প্রতিনিধি
ফতুল্লার পাড়া মহল্লার অলি গলিতে পলিথিন এখন দৈনিক চিত্র, কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ থাকলেও পলিথিনই যেন বাস্তবতা। ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার এবং লাগাতার অভিযান চালিয়েও রোখা যায়নি পলিথিনের আগ্রাসন। মানুষের হাতে হাতে ফিরে এসেছে পলিথিন। সারাদেশে বিভিন্ন প্রকার শপিংব্যাগ ব্যবহারকারীর শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন। খোদ ফতুল্লায় প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে লাগামহীন পলিথিন ব্যাগ। ফতুল্লায় এমন কোন মার্কেট, বিপণি বিতান, কাঁচাবাজার নেই যেখানে পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে না। এমনকি বিভিন্ন অলিগলির কাচা বাজার দোকান ও মুদিখানার দোকানগুলোতে পলিথিনের ছড়াছড়ি। একাধিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পলিথিনের উৎপাদন। এর মাধ্যমে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অথচ নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত করার বিরুদ্ধে ১০ বছর কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। পলিথিনে বাজার সয়লাব হলেও এর বিরুদ্ধে তেমন সোচ্চার দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কৃতপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার আগের অবস্থায় চলে এসেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার প্রথমদিকে এর বিরুদ্ধে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, পলিথিন যেন এখন বাস্তবতা। পলিথিন ছাড়া কোনভাবেই চলা সম্ভব নয়। পলিথিনের যেসব বিকল্পের কথা বলা হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল। এসব বিকল্প দিয়ে এত ব্যাপক চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। কারো কারো মতে ব্যাপক চাহিদার কারণেই ঠেকানো যাচ্ছে না পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই পলিথিন। সবকিছুতেই এর ব্যবহার এত ব্যাপক যে বিকল্প কোন কিছুতেই এর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। উন্নত বিশ্বে নিষিদ্ধ না করেও শুধু পলিথিন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত রাখা হয়েছে। শুধু পলিথিন কেন, সকল প্রকার প্লাষ্টিক সামগ্রীই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও বর্তমান যুগে প্লাষ্টিক নিষিদ্ধ সম্ভব নয়। এ কারণে পলিথিন এবং প্লাষ্টিক ব্যবস্থাপনার দিকে কঠোর নজর দিতে হবে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফতুল্লার বিভিন্ন কাচা বাজার এবং কি রাস্তার পাশের ফুটপাতের দোকান গুলোতেও পণ্য সরবরাহ কাজে বেপক হারে ব্যবহার করা হচ্চে। রাস্তা ঘাঠে পরে থাকতে দেখা যায় পলিথিন সময়তে বাতাসেও উরে। শুধু তাই নয় খালের দিকে তাকালেই দেখা যায় পলিথিন দ্বারা খালের অধিকাংশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে ড্রেন রাস্তার পাশের পানি, দুর্ভোগ পোহাতে হয় ফতুল্লাবাসীকে।সরার জন্য হুমকি হয়ে দারায় পলিথিন। এবং কি ফতুল্লার বুড়িগঙ্গার নদী পানি ও আশপাশ এলাকার বাসিন্দা বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ৬ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে এ ঘোষণা বাস্তবায়ন করে। আর কোন ব্যক্তি যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সামগ্রী বিক্রি বা বিক্রির উদ্দেশে প্রদর্শন, গুদামজাতকরণ, বিতরণ ও বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিবহন বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে, তার শাস্তি হবে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিন ব্যাগ এমন একটি বস্তু যার সৃষ্টি আছে ধ্বংস নেই। পলিথিন পরিবেশকে ধ্বংস করে কিন্তু নিজে ধ্বংস হয় না। এটি একটি জটিল রাসায়নিক যোগৗ। ফতুল্লার একবাসিন্দা বলেন, পলিথিন ব্যাগের চাহিদা মেটাতে দেশে উৎপাদিত পাট, কাগজ ও কাপড় দিয়ে অনেকটা সম্ভব বলে মনে হয়। আর তাই পলিথিনের বিকপ্ল অন্য কিছু ভাবা উচিৎ নয় তো পরিবেশ রক্ষা করা সম্বভ হবে না। এর জন্য জনসচেতনতা ঘরে তোলতে হবে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এর জন্য অবশ্যই সরকারকে এগিয়ে আশা উচিত।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *