অবশেষে আদালতে সেই পলাশ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ আদালতের চূড়ান্ত ও শেষ মেয়াদের ঘোষণার পর অবশেষে হাজির হয়েছেন ফতুল্লার বহুল আলোচিত দুর্ধর্ষ হিসেবে পরিচিত শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। তিনি দৈনিক সময়ের নারায়গঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেও আদালতে নিয়মিত হাজিরা না দিয়ে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিলম্ব করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালতে পলাশের দায়ের করা ফৌজদারী বিবিধ মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানী শেষে আদেশ পড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে মামলার তিনটি নির্ধারিত দিনেও আদালতে হাজির হয়নি পলাশ। বার বার তিনি সময় প্রার্থনা করে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিলম্ব করাছিলেন। গত ৯ মে আদালতে শুনানীতে জাবেদ আহমেদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু বাদীকে আগামী ধার্য তারিখে বাধ্যতামূলক হাজির হওয়ার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। বাদী ওই তারিখে হাজির না হলে মামলাটি খারিজেরও আবেদন করা হয়। পরে আদালত পলাশকে চূড়ান্ত ও শেষ বারের মতো সময় দেন। অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু বলেন, ‘গত বছর তথা ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল মামলাটি দায়েরের প্রায় ১৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু বাদী বার বার মামলায় সময় ক্ষেপন করছেন। বার বার তিনি আদালতে সময় প্রার্থনা করেন। পুরো মামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। মামলাটি হারার ভয়েই বাদী আদালতে হাজির হচ্ছেন না প্রতীয়মান। কিন্তু গত ৯ মে আদালত পলাশকে চূড়ান্ত ও শেষ বারের মতো সময় দিলে তিনি ২৯ আগস্ট হাজির হন। তবে বৃহস্পতিবার শুনানী শেষে আদালত আদেশ দেননি। আগামী রোববার আদেশ সম্পর্কে জানা যাবে।’ তিনি বলেন, বাদি পক্ষের আইনজীবী শুনানীতে আশংকা করেছেন যে, পলাশ তিনটি আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছেন। তা এক সঙ্গে একই আদালতে না হলে সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। তাদের আদালতের প্রতি আস্থা নেই। এতেই বুঝা যায় তারা আদালতের কাছে একটি ফরমায়েশী রায় প্রত্যাশা করে। যা আদালতকে অসম্মান করার সামিল।’ এখানে উল্লেখ্য ইতোমধ্যে নিউজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পলাশের ৫৭ ধারার একটি মামলার প্রতিবেদন জমা হয়েছে। পুলিশ ওই প্রতিবেদনে তানভীর হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে পলাশের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের একটি সংবাদ বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। ওই সংবাদের একটি অংশে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম রয়েছে। ওই সংবাদে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘পেশাদার অপরাধী’ সাইফুল ইসলাম টিটু, মতিন ওরফে মইত্যা ও হাজি আরমান হোসেনকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ২৮ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে চারদিনের রিমান্ড শেষে ১৫ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে তাদের কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারাগারে যাওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদে মতিন ওরফে মইত্যা জানান, কারাবন্দি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জানে আলমের নির্দেশনায় কেরানীগঞ্জের শুভাড্যা ইউনিয়নের যুবদল সভাপতি আরমানের দুটি রিভলবার ভাড়া নিয়েছিলেন টিটু। টিটুর মাধ্যমে ওই অস্ত্র পেয়ে তারা বিভিন্ন অপারেশনে নামেন। আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে কেরানীগঞ্জের একটি ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আরমানের তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এপিএস ও শুভাড্যা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, টিটু, মতিন ও আরমানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির (পাগলা) সভাপতি কাওছার হোসেন পলাশের সখ্য রয়েছে। পেশাদার এই অপরাধীরা অস্ত্রের হাতবদলের জন্য তার কার্যালয় ব্যবহার করেছিল। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া একটি সংবাদের রেশ ধরে ডান্ডিবার্তা ও সময়ের নারায়ণগঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। পরবর্তীতে পলাশের নির্দেশে তার অনুগামীরা শহরে মিছিল বের করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *