ক্ষমতাসীনদের হাতেই অধিকাংশ অস্ত্রের লাইসেন্স!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলায় অস্ত্রের লাইসেন্সের সংখ্যা ১ হাজার ১টি। এর মধ্যে বন্দুক ও শর্টগান ৫৯২টি, পিস্তল ২৫০টি, রিভলবার ৯৫টি ও ৬৪টি রাইফেল। নারায়ণগঞ্জে এক সময় শিল্প কারখানা, ব্যাংক ও পুঁজিপতিরা অস্ত্রের লাইসেন্স নিজ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নিলেও পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, তাঁদের আত্মীয় স্বজনেরা অস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে যেসব ব্যক্তির কাছে অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে তাদের একটি বড় অংশই প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ক্ষমতায় আসে। টানা দুই মেয়াদ শেষ করে এখন তৃতীয় মেয়াদে সরকারে আছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে দুই মেয়াদে দেওয়া হয় নতুন করে আরও ২৮২টি অস্ত্রের লাইসেন্স। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেওয়া হয় ১৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স। মহাজোট সরকার আমলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী নূর হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ছাড়াও আওয়ামী লীগ সমর্থক তিন কাউন্সিলর অস্ত্রের লাইসেন্স পান, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্বৃত্তপনার অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাংসদ শামীম ওসমানসহ তাঁরা তিন ভাই অস্ত্রের লাইসেন্স নেন। যাদের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে তারা হলেন জালাল উদ্দিন আহাম্মদের দুটি শর্টগান ও পিস্তলের লাইসেন্স আছে। জালাল উদ্দিন আবার সাত খুনের প্রধান আসামি নুর হোসেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফয়েজ উদ্দিন আহমেদও দুটি অস্ত্রের লাইসেন্সের মালিক। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, জোড়া খুনের মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত নিয়াজুল ইসলাম, ডাকাতি মামলার আসামি ও সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল করিম ওরফে ডিশ বাবু, নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিউর রহমান ওরফে মতি, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, পরিবহন নেতা মো. শহীদুল্লাহ, নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন অন্যতম। এর মধ্যে নিয়াজুল ও কাউন্সিলর বাবুর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করা হয়। নারায়ণগঞ্জের অস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের মধ্যে রাজনীতিক ও তাঁদের অনুগত হিসেবে যাঁদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রয়েছেন ৪৮ জন। আর বিএনপির ২১ ও জাতীয় পার্টির ১১ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় অংশই আলোচিত ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি বাহিনী থাকার পরও কেন এখানে এত অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার প্রভাবশালী বা সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের অনেকের কাছে অস্ত্রের লাইসেন্স যাওয়ায় তা নিয়ে উদ্বেগ আছে নাগরিক সমাজে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদও মনে করেন, এখানে অস্ত্রের লাইসেন্সের সংখ্যা আরও সীমিত হওয়া উচিত। কারণ, যেনতেন মানুষও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স বের করে নিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সঠিক ব্যক্তিরা যাতে লাইসেন্স পায়, তা তদন্তের সময় বিবেচনা করা হয়। ভবিষ্যতেও তা করা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *