পুলিশের উপর চটলেন আ’লীগ নেতা হেলাল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মহানগর আওয়ামী লীগের শোক র‌্যালিতে মিছিল নিয়ে এসে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। গতকাল শনিবার বিকেলে শহরের দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক আওয়ামী লীগের কর্মী জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ শোক র‌্যালির আয়োজন করে। পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচিতে যোগদানের লক্ষ্যে দুপুর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে শহরের দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে অবস্থান নেয় মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদিকে চাষাঢ়া থেকে আসা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর নেতৃত্বে একটি মিছিল দুই নম্বর রেল গেইট অতিক্রম করে। এ সময় বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী ট্রেন যাবার জন্য সিগন্যাল ফেলে দুই পাশের সড়ক চলাচল বন্ধ করে দেয় রেলের লাইনম্যান। ফলে মিছিলে আসা নেতাকর্মীরা সিগন্যালের ওপারেই অবস্থান নেয়। তবে জাকিরুল আলম হেলাল কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে সিগন্যালের বাঁশ তুলে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ লাইনসের পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) সুরুজ মিয়ার নেতৃত্বে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষুব্দ হয়ে জাকিরুল আলম হেলাল ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ধমকের সুরে সরে যেতে বলেন। জবাবে নিরাপত্তার কারণেই তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে বললে পরিদর্শক সুরুজের উপর আরো ক্ষিপ্ত হন হেলাল। এক পর্যায়ে দুই জন বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এমন সময় ট্রেন এসে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন তাদের সরিয়ে নেন। এ বিষয়ে পরিদর্শক মো. সুরুজ মিয়া বলেন, ট্রেন আসতেছিল। লাইনম্যান সিগন্যালের বাঁশ নামিয়ে দিছে। কিন্তু নেতা (জাকিরুল আলম হেলাল) বাঁশ তুলে তার কর্মীদের নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ট্রেন আসা অবস্থায় রাস্তা পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে আমি তাকে বাধা দিলে তিনি আমাকে ধমক দেন। আমি বলি, এখানে একজন ট্রেনের নিচে পড়ে মারা গেলে তো দায়ভার আমাদের। কেননা এখানে আমরা ডিউটিতে আছি। এই কথা বলার পরে তিনি আরো ক্ষেপে যান। তবে এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভি করেননি। পরে তার নম্বরে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও কোন সাড়া দেননি তিনি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *