
হাবিবুর রহমান বাদল
ঘুষ. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসের কারনে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে মুখ খুলতে পারেনি। জুলাই বিপ্লবের পর তাদের প্রত্যাশা ছিল সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অন্তবর্তিকালিন সরকার গঠনের পরও চাঁদাবাজদের দৌরাত্বের অবসান হয়নি। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ধাক্কায় কেবল চেহারা আর নামের বদল ঘটেছে, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সরকার বদলের শুরুর দিকে কিছুটা ‘বিরতি’ দিয়ে নতুন পরিচয়ে ধীরে ধীরে আবারও মাঠে নেমে পড়েছে চাঁদাবাজরা। আগের মতোই শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র তাদের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। হাট মাঠ ঘাট কোনটাই বাদ পরছে না এ সব নব্য নেতাদের হাত থেকে। মামলা বানিজ্য এখন বিএনপি নামধারী নেতাদের নতুন ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। ইতিমধ্যে মহানগর বিএনপি সদস্য সচিবসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। এসব নব্য বিএনপি প্রেমিকদের প্রধান টার্গেট যেন পেশাদার সাংবাদিকরা। এরা বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচার কোন অবস্থাতে সহ্য করতে পারছে। একজনতো নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে বিদেশ থেকে পএিকা দখলের হুমকিও দিয়ে ফেলেছে। এছাড়াও দেখা যায় কিছু সাংবাদিক জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আবার পতিত সরকারের গুনগান করে বেরিয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারপতনের পর তারা আবার ভোল পাল্টিয়ে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী বিরোধী হয়ে গেছেন। তবে এসব নেতাদের সবচেয়ে বড় টার্গেট পয়েন্ট হচ্ছে শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক এলাকা, বাস ও নৌ-টার্মিনাল, বালুমহাল ও হাটবাজার, ঝুঁট সেক্টর। এমনকি ফুটপাত আর অটোসহ আওয়ামী ধারায় চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে। এ সব চাঁদাবাজিতে আওয়ামী লীগের তৃতীয় সারির কর্মীদের ব্যবহার করছে পথঘাট চেনার জন্য। এই চাঁদাবাজদের বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সব সময়ই ক্ষমতাসীন দলের অনুগত হয়ে আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে ব্যবসায়ী আর বাসিন্দারা অতিষ্ঠ ছিলেন এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের অত্যাচারে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেই সরকারের পতনের পর নির্যাতিতরা ভেবেছিল তাদের ভাগ্যে বোধ হয় পরিবর্তন আসবে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা ঘটেনি। বিগত সরকারের আমলের চাঁদাবাজদের ছেড়ে যাওয়া শূন্য আসন পূর্ণ হতে সময় লাগেনি। সব পয়েন্টেই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে দখল ও চাঁদাবাজি। আর এই চাঁদাবাজরাও বর্তমান সময়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু অসাধু নেতার আশীর্বাদপুষ্ট। তবে পুলিশের চাঁদাবাজি নিয়ে আপাতত তেমন অভিযোগ মিলছে না। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও অন্যান্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় বলেন, ‘ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন রক্তপাত ও বিপুল প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত এ সম্ভাবনাকে যারা নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় ভাবছেন এবং এটিকে দলবাজি, দখলদারি ও চাঁদাবাজির সুযোগে রূপান্তরের অপপ্রয়াসে লিপ্ত হচ্ছেন, তা আন্দোলনের মূল চেতনার জন্য অশনিসংকেত। গত সরকারের পতনের মুহূর্ত থেকেই লক্ষ করা যাচ্ছে, একটি স্বার্থন্বেষীমহল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দলবাজি, চাঁদাবাজি, দখলদারত্বসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার তৎপরতা শুরু করতে শুনা যাচ্ছে। তবে, সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। যদি এমন ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোরহস্তে দমন করা হবে। এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে এই অপকর্মে জড়িত না হয় তার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাম্প্রতিককালে তার একাধিক বক্তব্যে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব থেকে দলের নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ এসব অপকর্মে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। চাঁদবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীও। সম্প্রতি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জে আসেন। এসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘অন্যায়, অপশাসন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামী সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের পাশে থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। তবে তাতে কাজের কাজ খুব একটা হচ্ছে বলে মনে করছে না ভুক্তভোগীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ বদ্ধপরিকর। এমনকি চাঁদাবাজদের তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই। যে দলের বা মতেরই হোক না কেন, তারা চিহ্নিত অপরাধী। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জেলার সব থানার পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। সহস্রাধিক ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের ফসল বতর্মান অন্তর্বতি সরকার। এ সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন তথা জনতার কাছে অজনপ্রিয় করতে স্বৈরাচারের দোসররা নানা ষড়যন্ত্র সফল করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে চলেছে। এদের কাছে টাকা কোন সমস্যা নয় তাই এসব সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে কঠোর হতে হবে। কঠোরভাবে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী আর দখলবাজদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করবে এমন প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জবাসির।
হাবিবুর রহমান বাদল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সাথে সাথে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার দোসররা কেউবা পালিয়েছে আবার কেউ আত্মগোপনে রয়েছে। বিগত পতিত সরকারের আমলে পেশাদার সাংবাদিকরা সব কিছু দেখলেও কোন কিছুই লিখতে পারতনা। আকাঁরে ইঙ্গিতে কোন কিছু লিখলেই সেইসব সাংবাদিকের উপর খর্গ নেমে […]
হাবিবুর রহমান বাদল নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা প্রতিদিন প্রকাশ পাচ্ছে। এনিয়ে সাধারণ নাগরিকরা সরব হয়ে উঠেছেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা […]
ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট: আড়াইহাজার থানায় দায়ের করা উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বাবুল মিয়া হত্যা মামলা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবুল মিয়ার মৃত্যু হলেও দুই মাস পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে ২২ আগস্ট হত্যা মামলা করেছেন দুপ্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন। এই […]
প্রকাশক ও সম্পাদক
হাবিবুর রহমান বাদল
০১৯১১০১০৪৯০
hr.badal@yahoo.com
বার্তা ও বাণিজ্যক কার্যালয়
৬. সনাতন পাল লেন
(হোসিয়ারী ক্লাব ভবন, তৃতীয় তলা)
৭৬৪২১২১
dbartanews@gmail.com
রেজি: ডিএ নং-২০৯৯