সুসময়ের নেতাদের দাপটে বেকায়দায় ত্যাগীরা!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। দল ক্ষমতায় থাকায় অনেকে নিজের পদ-পদবীর জোরে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। অনেকে রাজনীতিকে ব্যবসায়ী পরিনত করেছেন। রাজনীতির কল্যানে যারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন তারা দলের স্বার্থে কোন প্রকার ভূমিকা রাখছেন না। দলের স্বার্থে রাজপথে না থাকলেও নিজের প্রয়োজনে পদ-পদবী ব্যবহারে বেশ পটু অনেকেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেক শীর্ষ নেতাই রাজপথে দেখা যায়নি। দলীয় কোন কর্মসূচীতেও উপস্থিত থাকেন না। যার ফলে দলীয় কার্যালয়ে হাতেগুনা কয়েকজনকে নিয়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কর্মসূচী পালিত হয়ে আসছে। যদিও আগস্ট মাসে সাংসদ শামীম ওসমানের কল্যানে শহরে তাক্ লাগানো কর্মসূচী পালন করতে সফল হয়েছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ। জানাগেছে, দলীয় কর্মসূচী বা রাজনীতির মাঠে তেমন দেখা মিলছে না, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজুর রহমান ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতসহ বেশ কয়েক জন নেতা। অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে দলীয় প্রতীক পেতে এরাই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনের পর এরাই রাজনীতিতে এখন নিশ্চুপ। তাই কর্মীদের বলছেন, নিজ স্বার্থেই এদের মত সুবিধাবাদি নেতারা রাজনীতিতে সক্রিয় হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন না পেলেও বন্দর উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপর ছিলেন আবু সুফিয়ান। আর বন্দর উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক না পাওয়ায় রাজনীতির মাঠে তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। দলীয় কোন কর্মসূচীতেও উপস্থিত থাকছেন না তিনি। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সুফিয়ানকে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠজন ও ঠিকাদার হিসেবেই চিনেন। আর মেরয় আইভীর কল্যানেই জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন সুফিয়ান। এছাড়াও, মহানগর আওয়ামীলীগের মাহমুদা মালা, আহসান আবীব, জিএম আরমানসহ অনেকেই রাজনীতি সক্রিয় ভাবে দেখা যায় না। অপরদিকে, দলের স্বার্থে সবসময়ই মাঠে দেখা যায় মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সাজনুসহ অনেকেই। বিশেষ করে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাদের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেখা যায়। তারা দলের দু:সময় থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত দলের স্বার্থেই কাজ করছেন। আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। অথচ যারা দলের পদ-পবদী দখল করে রেখেও দলের স্বার্থে কাজ করছেন না তারাই বেশ দাপুটে অবস্থানে রয়েছেন। সুসময়ের নেতাদের দাপটে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছেন ত্যাগীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *