জেলা বিএনপির ব্যর্থতায় হতাশ তৃণমূল

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতায় ফুঁসে উঠছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। দলকে সংগঠিত করতে না পারা এবং বিপদের মুখে কর্মীদের ফেলে পালিয়ে যাওয়া নেতাদের নেতৃত্ব আর দেখতে চায় না তারা। দলের এই চরম ক্রান্তিকালে হাল ধরার জন্য তাই অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতাদের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা। ফলে ভাঙ্গনের সুর বাজতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে। জানাগেছে, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি আর অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে ঘোষনা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটি। মূলত ব্যবসায়ী পরিচয়ের নেতা কাজী মনিরকে সভাপতি আর যুবদল থেকে সরাসরি জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পদে প্রমোশন পান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। কমিটি গঠনের পরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশার আলো দেখতে পান নতুন করে উজ্জীবিত হওয়ার জন্য। কিন্তু জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান আর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ তাদের সেই আশায় গুড়েবালি দেন। প্রায় বেশীরভাগ কর্মসূচিতেই থাকেন অনুপস্থিত, আর মাঝে মাঝে দুএকটি কর্মসূচিতে এলেও তুিড়ঘড়ি করে নেতাকর্মীদের ফেলেই পালিয়ে যান। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ডাকা মানববন্ধনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতেও আসেননি এই ব্যবসায়ী নেতা। সভাপতির অনুপস্থিতে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন করেন নেতাকর্মীরা। দায়িত্ব পাওয়ার পরে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং বিপদে আপদে পাশে থেকে তৃণমূলকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে নানা প্রকার বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে দলের ভিতরে বিভাজনের সৃষ্টি করে। এদিকে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। যদিও কমিটি অনুমোদন করা হয় ১৩ মার্চ কিন্তু রহস্যজনক কারনে তা ২৭ মার্চ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। গুঞ্জণ শোনা যায়, এ সময়ের মধ্যে কমিটি নিয়ে বিশাল অংকের পদ বানিজ্য করেন সভাপতি সেক্রেটারী। তাছাড়া কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি ঘোষনা নিয়েও বিতর্কের জন্ম দেন এ দুজন। সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কমিটি আড়াই বছর পার করলো নানা সমালোচনা আর বিতর্কের গ্লানি নিয়ে। গত আড়াই বছরে কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানকে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা গেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাগানোর সময়েই শুধু, অন্য সময়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে খুব একটা দেখা মিলেনি এই ব্যবসায়ী নেতার। মাঝে মধ্যে যা দুএকটা কর্মসূচিতে এসেছেন, সেখানেও নেতাকর্মীদের ফেলে মোটর সাইকেলে চড়ে পালিয়ে গেছেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও গত ৩০ অক্টোবরে জেলা বিএনপি’র কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে শহরের চাষাঢ়া লুৎফা টাওয়ারের সামনে পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীদের ফেলে পালিয়েছেন, যদিও শেষ রক্ষা হয়নি তার, দৌড়ে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। এছাড়াও চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীদের ফেলে রেল লাইন দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছেন সংগঠনের সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল। নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে রেখে নিজের স্বার্থ চিন্তা করে পালিয়ে যাওয়া এসব নেতাদের নেতৃত্ব আর মানতে চাইছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। দলের এই চরম দু:সময়ে এসব স্বার্থান্বেষী সুবিধাবাদী নেতাদের সরিয়ে দলের বিপর্যয়ে এগিয়ে আসা নেতাদের হাতে জেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব দেখতে চায় বিএনপি’র কর্মী সমর্থকরা। ফলে ভাঙ্গনের সুর বাজছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *