ফতুল্লায় কিশোর গ্যাংরা সক্রিয়

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় ফতুল্লা থানার শীর্ষ তালিকাভুক্ত, চিহ্নিত ও তারকা সন্ত্রাসীরা আতœগোপন বা নীরব থাকলে ও উঠতি বয়সী কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরাই এখন ফতুল্লাবাসীর আতংকে পরিনত হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতেই উঠতি এ সকল সন্ত্রাসীরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ সমাজ বিরোধী নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্ম দিয়ে স্থানীয়বাসীদের জীবন যাত্রাকে করে তুলেছে অসহনীয় যন্ত্রনাময়। স্থানীয় ভুক্তভোগী মহলের অভিমত, উঠতি বয়সী এ সকল কিশোর সন্ত্রাসীদের অধিকাংশরাই কোনো না কোনো ভাবে মাদকের সাথে জড়িত এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা পরিচালিত। এ সকল সন্ত্রাসীদের প্রতি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত, হামলা বা শারিরীক নির্যাতনের শিকার হলে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনি সাহায্য নিতে সাহস পাচ্ছে না। আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় শীর্ষস্থানীয়, তারকা সন্ত্রাসীরা এখন আর অতিতের মতো বিভিন্ন এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়ায় না। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীদের প্রভাব না থাকলে ও ফতুল্লায় থেমে নেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতেই দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোর সন্ত্রাসীরা। রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় এরা এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন সেক্টর দখলে রাখতে প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। সামান্য তুচ্ছ ঘটনাতে মানুষ হত্যার মতো ভয়ংকর অপরাধের সাথে জড়িত তারা। প্রভাবশালী আর রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় এরা নির্বিঘেœ জন্ম দিচ্ছে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড। সদ্য গজিয়ে উঠা উঠতি বয়সী এই সকল কিশোর অপরাধীদের তালিকা প্রশাসনের নিকট না থাকায় প্রশাসন তাদেরকে চিহ্নিত করে কার্যকরী ব্যবস্থাও গ্রহন করতে পারছেনা। তাছাড়া এদের বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতিত-ক্ষতিগ্রস্থদের কেউ কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের কারনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে তার দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। ফলে অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়া এ সকল অপরাধীরা আরো বেশী বেপোরোয়া হয়ে ভয়ংকর অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় ফতুল্লার দেওভোগ হাশেমনগর এলাকায় মো. শাকিল (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৬ জন। নিহত শাকিল দেওভোগ পূর্বনগর এলাকার মৃত আমান উল্লাহর ছেলে। আহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন শাওন, সজিব ও সুভাষ। দেওভোগের হত্যাকান্ডের রেশ না কাটতেই গত ১০ আগস্ট ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ীরা পিটিয়ে হত্যা কারে জুম্মন নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে। ঘটনার দিন দুপুর দেড়টায় পূর্ব দেলপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। জুম্মনকে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জুম্মনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জুম্মন কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া রঘুনাথপুর এলাকার কাইয়ূমের ছেলে। জুম্মন হত্যাকান্ডের ৪৮ ঘন্টা না যেতেই ঈদের দিন ভোরে ফতুল্লার পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় রাকিব (২২) নামের যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী গিয়ার মানিক ও তার সহযোগীরা। নিহত রাকিব ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে। হত্যাকান্ডের সময় রাকিবের সঙ্গে থাকা বন্ধু আব্দুল্লাহ জানান, ভোর ৪টায় কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরছিল রাকিব ও আবদুল্লাহ। তাদের বহন করা রিকশা পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় আসলে একই এলাকার মানিক সহ ৪/৫ জন পথরোধ করে রিকশাটি আটকায়। তখন দুর্বৃত্তরা রাকিবকে চোর আখ্যায়িত করে ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট শুক্রবার রাতে ফতুল্লার দেওভোগে সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে সোলেয়মান হোসেন অপু (২৮)নামক এক ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রিকে। ফতুল্লা মডেল থানা সীমান্তে দেওভোগ নাগবাড়ী মন্দির এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত অপু ফতুল্লা থানার দেওভোগ তাতিপাড়া এলাকার আজিজ মিয়ার ভাড়াটিয়া রমজান মিয়ার পুত্র। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট রাতে ফতুল্লা রেল স্টেশন এলাকায় মুখে গামছা বেঁধে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করে স্থানীয় সন্ত্রাসী শান্ত, শুভ, রাজনসহ অজ্ঞাত ৩/৪জন কিশোর অপরাধী। সূত্র জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ফতুল্লা অঞ্চলে কিশোর অপরাধ বেড়েই চলছে। সরে জমিন ফতুল্লা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কিশোর অপরাধীদের তৎপরতা লক্ষ করা যায়। যারা কিশোর গ্যাং কিংবা অপরাধীদের নেতৃত্বে দিচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেযোগ্য হচ্ছে দাপা এলাকায় যুবলীগ সমর্থক শাহিন অরুফে বোটকা শাহিন, রেল স্টেশন এলাকায় মোয়াজ্জেম বাবু-বিদ্যুৎ পাল, শাহজাহান রোলিং মিল এলাকায় সাজ্জাদ-ফয়সাল-রাসেল, রেললাইন বটতলা এলাকায় অটো হানিফ, তক্কার মাঠ এলাকায় শামীম বাহিনী, খোঁজপাড়া এলাকায় ওয়াসিম, ফতুল্লা পোস্ট অফিস এলাকায় শাহাদাৎ, রেইনবো মোড় ইউনিয়ন পরিষদ মোড় এলাকায় ডাকাত রেহান, কাঠেরপুলের মুরাদ, পঞ্চবটি এলাকায় মির্জা রণি-মির্জা বাবু, লালখাঁ এলাকায় সজল। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, অপরাধীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। যে দলই করুক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *