গৃহবন্দি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় নেই ২৯ মাস পার হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির চলেছে নেতাদের ঘরোয়া বৈঠক, ও ঘর থেকে নির্দেশনার মাধ্যমেই। আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার এ নারায়ণগঞ্জে প্রায় আড়াই বছর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দল কার্যালয় ছাড়া চলছে সেটি এখন আর নেতাকর্মীরা মানতে নারাজ। আর তাই ঘরোয়া দাওয়াত ও অনুষ্ঠানগুলো তারা বর্জন করেই চলছেন। দীর্ঘ এ সময়ে জেলা বিএনপি নেয়নি কোন অস্থায়ী কার্যালয় তবে সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের নিজস্ব কার্যালয়টি তিনি বর্তমানে দলীয় কাজে ব্যবহার করছেন। একই অবস্থা মহানগর বিএনপির ক্ষেত্রেও। তবে শহরের কালিরবাজারে ফ্রেন্ডস মার্কেটে মহানগর বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয় ঘোষণা করে সেখান থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেটিকে বর্জন করে মূল ধারা থেকে বেরিয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজস্ব কার্যালয়টি রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছেন। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কার্যালয়টি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এর আগে আদালতে কার্যালয়টি না ভাঙতে মামলা করেছিল বিএনপি। সে মামলায় জয়ী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) কার্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলে। মামলায় পরাজিত হয়ে উপায় না পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসিক মেয়র আইভীর সাথে সাক্ষাৎ করে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য বললে আইভী তাদেরকে অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান দেখতে বলেন। তবে দীর্ঘ আড়াই বছর পার হলেও এখনো সে স্থান ঠিক করতে পারেনি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমন অবস্থায় কার্যালয়হীন নেতাকর্মীরা নিজেদের বসার বা আলোচনার কোন স্থান পাচ্ছেন না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ২০১৩ সালের মার্চে জেলা বিএনপির কার্যালয় ও এর নিচ তলাতে অবস্থিত দোকান মালিকদের অনেক আগেই বলা হয়েছে সেখানে ৯তলা বিশিষ্ট মার্কেট ভবন করা হবে। এর মধ্যে এখানকার ভবনে নিচ তলায় যেসব দোকান মালিকেরা রয়েছেন তাদেরকে নতুন ভবনের নিচ তলাতে অনুরূপ আকৃতির দোকান দেওয়া হবে। এছাড়া দ্বিতীয় তলায় থাকা জেলা বিএনপির কার্যালয়টিও অনুরূপ আকৃতির করে দেওয়া হবে। কারণ বিএনপি কার্যালয় ও দোকান মালিকেরা আগেই পজিশন কিনে নিয়েছেন। এ কারণেই তাদের ক্রয়কৃত পজিশনের আকৃতি অনুযায়ী নতুন ভবনে জায়গা দেওয়া হবে। ৪ তলার পর করা হবে আবাসিক ফ্ল্যাট বাসা। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি যতদিন দায়িত্বে ছিলাম কার্যালয়টি আমি নিজের সন্তানের মত করে আগলে রেখেছি, নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে নিয়মিত কর্মসূচী করেছি। আমি তো হাইকোর্টে পর্যন্ত গিয়েছিলাম এই কার্যালয়ের জন্য। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের মনে আজকে রক্তক্ষরণ হয়। কারণ দলের নেতারা আজকে ঘরে বসে দলীয় কাজ করে। বিএনপিতো কারো ঘরে বন্দি দল না। তাই বিএনপির একটি কার্যালয় অবশ্যই দরকার। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনে কেউ চাপও প্রয়োগ করেনা। আমি নেতাকর্মীদের এই রক্তক্ষরণ বন্ধে কেন্দ্রের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *