না’গঞ্জের বির্তকিত নেতাদের তালিকা এবার প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে অন্যান্য জেলার মত নারায়ণগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীদের বিস্তারিত আমলনামা পৌছেছে বলে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এইসব আমলনামা প্রধানমন্ত্রী যাচাই বাছাই করে অচিরেই সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানা গেছে। দলের নাম ও পদ পদবী দখল করে যারা দুর্নীতির মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তাদের কাউকেই ছাড় দিবেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে দলে শুদ্ধি অভিযানও চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হার্ডলাইনে অবস্থানের কারণে অনেকেই আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলে বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবার আমলনামা এখন তার কাছে। বিতর্কিত কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপিসহ জেলার নেতাদের বিরুদ্ধেও অ্যাকশন শুরু হবে। আর এ কারনে সকল জেলার নেতাকর্মীদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে পৌছতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগের আমলনামা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌছেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও কার্যকলাপের খোঁজ খবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক বিভাজন দুর করতে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী একাধিকবার উদ্যোগ নেয়ার পরও নারায়ণগঞ্জে নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব কমেনি। গণভবন থেকে বেরিয়ে এসে আবার দলীয় কোন্দলে মেতে উঠেন অধিকাংশ নেতা। এ অবস্থার অবসান চান মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের তৃর্ণমূল নেতারা মনে করেন, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন দুর হলে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে উঠবে। আওয়ামীলীগের জন্মস্থান হিসাবে পরিচিত নারায়নগঞ্জের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে তিনি অনেকটাই ত্যক্ত-বিরক্ত বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, গত শনিবার গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তিন বছরে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘এই মেয়াদে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন হলো কেন? বাকিগুলো কেন হলো না? আপনারা করেন কী? কে কী করেন সবার আমলনামা কিন্তু আমার কাছে রয়েছে। জেলায় জেলায় গিয়ে খাওয়াদাওয়া করে আসেন, দলের কাজ তো কেউ করেন না। ব্যক্তি অপকর্মের দায় দল ও সরকার নেবে না। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ নারায়ণগঞ্জে জেলা আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কমিটিগুলি মেয়াদ উর্তীন বলে জানা গেছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলে যে ধরণের দৃশ্যমান কোন্দল রয়েছে তা নিয়ে খোদ হাইকমান্ড বিব্রত। জানা গেছে, টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের ইমেজ রক্ষায় এবার আর কোনো ছাড় নয়। অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলের গঠনতন্ত্র, নীতি-আদর্শবিরোধী যে কোনো কর্মকা- করলেই ছাড় পাবেন না কেউই। জাতীয় সম্মেলনের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোয় একটা গুণগত পরিবর্তন আনতে কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনৈতিক অভিযোগের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ থেকে শোভন-রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুবলীগকেও শেষ বারের মতো সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের ট্রাইব্যুনাল চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। এদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্সনীতি বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিতর্কিত নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী হওয়া সারাদেশে দলের ১৭৭ নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের নামে চিঠি গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের চিঠির জবাব দিতে হবে। চিঠির জবাব পাওয়ার পর প্রতিটি উপজেলার বিষয়গুলো বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা চিঠির জবাব দেবেন না, তাদের সরাসরি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। জানা গেছে, বিদ্রোহীদের জবাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে যদি কোনো কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী-এমপির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্রোহীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত ১২ জুলাই ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে, আপনার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নানাবিধ তৎপরতাসহ সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকা-ে লিপ্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে কারণে গঠনতন্ত্রের ৪৭ (ক) ধারা অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রেরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, কেবল ছাত্রলীগ-যুবলীগ নয়, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ ও তার প্রমাণ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে আছে। কাউকে ছাড়বেন না তিনি। শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তৃণমূলে যাদের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলেও জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের মদদ না দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেতাকর্মীদের কাছে আরো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছেন তিনি। রাজনীতির নামে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি, পেশিশক্তি প্রয়োগ ইত্যাদির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তিন মেয়াদের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা এখন দল নিয়ে খুবই সিরিয়াস। তিনি চান না, তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্জন দলীয় কিছু নেতাকর্মীর আচরণের কারণে ম্লান হয়ে যাক। এক্ষেত্রে যত বড়ো নেতাই হোক রক্ষা পাবেন না। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দল ও সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ব্যাপারে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের বিভিন্ন সূত্র এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করছেন তিনি। বিশেষ করে মন্ত্রিসভার সব সদস্য, এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ব্যাপারে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করছেন শেখ হাসিনা। তাদের অনেকের আমলনামা শেখ হাসিনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। যে কোনো সময় বিতর্কিতদের কপাল পুড়তে পারে। এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর আমলনামা এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। তাছাড়া জেলার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িতসহ দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *