শামীম ওসমানকে বিতর্কিত করার মিশন!

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানকে বিতর্কিত করার মিশনে নেমেছেন একটি মহল। সম্প্রতি কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সর্বশেষ সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন ও আহবায়ক কমিটির নেতাদের ডাকা সভাতে অবরুদ্ধ হয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন আব্দুল হাই ও আবু হাসনাত শহিদ বাদল। তাদের একক সিদ্ধান্তে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি দিলেও এনিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। তবে বিষয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ নেই বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে। জানাগেছে, গত ২১ আগস্ট চাষাড়া শহীদ মিনারে স্মরণ সভার আয়োজন করে জেলা আওয়ামীলীগ। সভাতে সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারিদের কারণে সফল করতে পেরেছেন জেলা আওয়ামীলীগ। আর শামীম ওসমানের নির্দেশে তার অনুসারিরা জেলা আওয়ামীলীগের কর্মসূচী সফল করতে মাঠে নামেন। অথচ গত ৭ তারিখে সাংসদ শামীম ওসমানের ডাকা গণ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না জেলার সভাপতি আব্দুল হাই। তবে নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে জেলা পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কড়া বক্তব্য দেন আব্দুল হাই। অথচ দলীয় সাংসদের অনুষ্ঠানে আসতে অনীহা ছিল তার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন ইস্যুতে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কড়া বক্তব্য দেন বাদল। অথচ গুঞ্জন রয়েছে, শামীম ওসমানের কল্যানেই জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদটি পেয়েছেন আবু হাসনাত শহিদ বাদল। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ভোল পাল্টে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা লুফে নিয়েছেন দুই নেতা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডে সমালোচিত হয়েছেন তারা। সর্বশেষ সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন হাই-বাদল। শামীম ওসমান বিরোধী অনেকেই প্রচার করছেন সাংসদ শামীম ওসমানের ইন্ধনে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে বিদ্রোহ ও লড়াই দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই সংঘর্ষের অংশ হিসেবে সভা পন্ড হয়েছে। আর জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারাও সেই দ্বন্দ্বের রোষানলে পড়ে অবরুদ্ধও ছিলেন। দলের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে এতো বড় বিদ্রোহ এর আগে দেখা যায়নি যা দলটির নীতিনির্ধারকদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। এর ফলে সেই বিদ্রোহ লড়াই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে অনিশ্চিত রাজনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ দলটিতে এই প্রথম এতো বড় বিদ্রোহ ও দ্বন্দ্বের দৃশ্য দেখা দেয়। এমনকি দলটির জেলার শীর্ষ পদীয় নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এই লড়াই এখন বিরাট আকার ধারণ করেছে। আর যে কোন দলের দ্বন্দ্ব বিভক্তি ও বিদ্রোহ দলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনা। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহ মানে বিরোধী দলগুলোর জন্য মঙ্গলকর অবস্থান। কারণ সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগ যদি দ্বন্দ্বের ফলে বিভক্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে তাতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মত রাজনীতিক দলগুলো সুযোগ পেয়ে যাবে। তাছাড়া দলের ভেতরে এতো বড় বিদ্রোহ ও লড়াই সত্যিই চিন্তার বিষয়। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে সাংসদ শামীম ওসমান কঠোর পরিশ্রম করলেও একটি মহল নানা প্রকার ষড়যন্ত্র করছে। কেননা শামীম ওসমানের কারণেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ বিরোধীরা মাথা চাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তাই বিরোধীরা সাংসদ শামীম ওসমানকে টার্গেট করে খোদ স্থানীয় আওয়ামীলীগ কতিপয় নেতাদের ম্যানেজ করে শামীম ওসমানকে বির্তকিত করতে বিরোধীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে শামীম ওসমানের অনুসারিদের রাজনৈতিক ভাবে বর্তমানে অনেকটা কোনঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *