তুহিনের মৃত্যুর পর  আতংকে কিশোর গ্যাং

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতে গড়ে উঠেছে উঠতি সন্ত্রাসীরা। বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড নিহতের পর থেকেই এ আদলে গড়ে উঠা বন্ড ও কিশোর গ্যাং বাহিনী আলোচনায় চলে আসে। তবে এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ঘটে যায় নানা ঘটনা। কয়েকটি স্থানে এসব বন্ড বাহিনীর আদলে থাকা বাহিনীগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকে। শহরের দেওভোগে মটরসাইকেলের হেড লাইটের আলো পড়ায় খুন করা হয় শাকিল নামের একজনকে। ওই ঘটনাতেও ছিল বন্ড বাহিনী। সেই বন্ড বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন তুহিন। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই আতংক ছড়িয়ে পড়ছে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র। বরগুনায় রিফাত হত্যার পরেই বন্ড ও কিশোর গ্যাং বাহিনী আলোচনায় চলে আসে। শহরের একটি অভিজাত এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, তাদের এলাকাতেও রয়েছে বন্ডের মত বাহিনী। তারা মূলত দামী মটরসাইকেল নিয়ে ঘুরাফেরা করে। এসব মটরসাইকেলের সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দে চালায় মটরসাইকেল। কারো চুল কাটা থাকে ওয়ের্স্টান ছবির আদলে। কেউ বা হাতে লাগান মোটা বেসলেট। কারো গলায় থাকে মোটা চেইন। এলাকার উচ্ছৃঙ্খল ছেলে হিসেবেই পরিচিত তারা। এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে বসে তাদের আড্ডা। সেখানে বসেই নিয়ন্ত্রন করতে থাকেন পাড়া মহল্লা। তারা আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক মতার্দশের বড় ভাইদের অধীনে পরিচালিত। পান থেকে চুন খসলেই ছুটে যান বড় ভাইদের কাছে। তাদের কাছ থেকে পেয়ে যান শেল্টার। বিনিময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা সমাবেশে তাদের নেতৃত্বে টিনএজদের শো ডাউন ঘটে। ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত বায়তুন নূর জামে মসজিদের পিছনের বালুর মাঠ থেকে তাদের আটক করে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে সদর থানা পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে আটককৃতদের হস্থান্তর করেন। ৪ আগস্ট রাতে বন্দর উপজেলার অলিপুরা কবরস্থান এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করে তিন কিশোর। ২৩ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বাবুরাইলে সালেমান হোসেন অপু (৩০) নামের যুবককে বাড়ি হতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের এজাহারনামীয় আসামী পারভেজকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৭ জুলাই রাতে ফতুল্লার দেওভোগ হাশেম নগর এলাকায় মোটর সাইকেলের লাইটের আলো চোখে পড়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৬ জন। পরদিন শাকিলের ভাই সাঈদ বাদী হয়ে তুহিন, নিক্সন ও চান্দুর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি বুলেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলেন, ঘটনাস্থলে একজন মটরসাইকেল আরোহীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানের প্রতিবাদ করার কারণেই শাকিলকে হত্যা করা হয়েছে। ২৮ জুন বন্দর উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় স্ত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মো. শাহীন মিয়া (৪০) নামে ব্যক্তিকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ৩১ জুলাই রাতে ফয়সাল (১৯) নামে কিশোর শহরের খানপুর বরফকল এলাকায় বান্ধবীর মোবাইল ফিরিয়ে দিতে গেলে তাকে পিেিয় হত্যঅ করা হয়। এ ঘটনায় আরো ৫ কিশোরকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। ২২ আগস্ট দুপুরে গোলাকান্দাইল এলাকায় সন্ত্রাসীরা জিসান হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলে শুক্রবার ২৩ আগস্ট সকালে ঢাকা মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *