দুর্গোৎসবে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে : এসপি হারুন

 

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। এ সময় পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সফল করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা এটাকে কখনও কাজ মনে করি না, মনে করি এটা আমাদেরও একটা উৎসব। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে সকল ধর্মের মানুষ যাতে সমানভাবে দুর্গোৎসবে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা বদ্ধ পরিকর। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব সময়ই অসম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে আসছে। ১৯৭১ সালে এই চেতনার উপর ভিত্তি করেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিলো। সেই চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখতে বরাবরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্গোৎসবের নিরপিত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি থানার ওসিকে বলা হয়েছে তার নিজ নিজ এলাকার পূজা ম-পগুলোতে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর রাখতে। প্রয়োজনে পূজা পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধানের ব্যবস্থা করতে। এ জন্য প্রতিটি থানায় পূজা পর্যন্ত একটি বিশেষ সেল খোলা থাকবে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নুরে আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। তিনি বলেন, যে কোন প্রয়োজনে সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। তাছাড়া হোন্ডা মোবাইল টিম থাকবে এবং আনসার সদস্যরা তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি পূজা ম-পে সিসি টিভি ও ভলান্টিয়ার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা আশা করছি সকলের সহযোগিতায় লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান, বারদীতে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মোৎসব ও শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর মতো শারদীয় দুর্গোৎসবও জাঁকজমক আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হবে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোথাও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা নেই। তবে একটি কুচক্রি মহল দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানা প্রকার উস্কানীমূলক তৎপরতা চালাতে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোন প্রকার গুজবে কান দিবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উস্কানীমূলক কোন প্রকার প্রচারণা থেকে বিরত থাকবেন। কোন প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হলে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করবেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ২০৫টি পূজা ম-পের বিস্তারিত তথ্য লিখিত আকারে পুলিশ সুপার বরাবর জমা দেওয়ার জন্যে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ শিখন সরকার শিপনকে ধন্যবাদ জানান পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে পূজা পরিষদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ পুলিশ প্রশাসনের সকলকে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ২০৫টি ম-পে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি পূজা ম-পের বিস্তরিত তথ্য চিহ্নিতপূর্বক একটি লিখিত কপি পুলিশ সুপার বরাবর দাখিল করা হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা ম-পের কমিটিকে নির্দেশনা দিয়ে দেয়া হয়েছে স্ব স্ব এলাকার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সকল ধর্ম বর্ণের মানুষকে সম্পৃক্ত করে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে। তাছাড়া আমরা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে খুব শীগ্রই সদর-বন্দর আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করবো এবং পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জের সকল জনপ্রতিনিধির সাথে মিলিত হয়ে একটি সুন্দর দুর্গোৎসব আয়োজনের ব্যবস্থা করবো।  শিখন সরকার শিপন বলেন, আশা করছি লাঙ্গলবন্দের পূণ্যস্নান, জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা ও শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় প্রতিবারের মতো এবারেও ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অব্যহত রেখে নারায়ণগঞ্জবাসী আনন্দমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করতে পারবে। সেই সাথে প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনের সদা তৎপরতায় কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তি প্রকাশ করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নুরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুবাস চন্দ্র সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাশ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সাহা, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক উত্তম সাহা, জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কমলেশ সাহা, সাবেক প্রচার সম্পাদক রিপন ভাওয়াল, ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত ম-ল, সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার দাশ, সোনারগাঁ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. প্রদীপ ভৌমিক, বন্দর কমিটির শংকর কুমার দাশ, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, সিদ্ধিরগঞ্জ কমিটির সভাপতি শিশির ঘোষ অমর, আড়াইহাজার কমিটির সভাপতি হারাধন চন্দ্র দে, রূপগঞ্জ কমিটির সভাপতি গনেশ পালসহ বিভিন্ন থানা ও উপজেলা কমিটি এবং পূজা ম-পের নেতৃবৃন্দ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *