প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনেও এক কাতারে নেই না’গঞ্জ আওয়ামীলীগ

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে এতটাই বিভাজন যে কারনে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন অনেকটাই হতাশ বলা চলে। দলের মধ্যে উত্তর দক্ষিণ মেরুর বিভাজন আওয়ামীলীগের প্রাণ শেখ হাসিনার জন্ম দিনেও এদেরকে এক কাতারে আনতে পারেনি। গত শনিবার আলাদা আলাদা ভাবে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। এই দিনটি পালন করতে আওয়ামীলীগের সবগুলো অঙ্গসংগঠন ও সহযোগি সংগঠনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগ দিনটি উদযাপন করেছেন। টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে চলা জেলা আওয়ামীলীগ দিনটি উদযাপন করলেও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনেও তারা এক হতে পারেনি। দলের ভেতরের সেই টানাপোড়নের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কার্যালয়ের সামনে পুলিশি প্রহরায় দিনটি উদযাপন করা হয়। এতে দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব বিভক্তি একেবারে পরিষ্কার হয়েছে। কারণ বিভক্ত একটি পক্ষ জেলা আওয়ামীলীগের কর্মসূচি বর্জন করে আলাদাভাবে পালন করেছে। সুতরাং দলের প্রধান শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানেও যেখানে ঐক্যে আসতে পারছেনা সেখানে আদৌ ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবেনা বলে মনে রাজনীতি বিশ্লেষকরা। জানা গেছে, গত শনিবার আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আওয়ামীলীগের মূল দল সহ সহযোগি অঙ্গ সংগঠনগুলো মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে জেলা আওয়ামীলীগেও দিনটি পালিত হলেও দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্ষোভ থাকার ফলে দলটির বড় অংশের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিত দেখা যায়। জেলা আওয়ামীলীগ বর্তমানে মূলত আইভী মেরু ও ওসমান মেরুর অনুগামী হাই বাদলের বিভক্ত হয়ে আছে। আর জেলা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম হাই বাদল পরিচালনা করার ফলে আইভী বলয় অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যের মধ্য দিয়ে উন্নয়নের সর্বোচ্চ সোপানে আরোহন করতে চান সেখানে নিজ দলের নেতাকর্মীরা ঐক্য ছেড়ে অনৈক্যের নৌকায় পাড়ি জমাচ্ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে বেশ দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র দেখা যাচ্ছে ধারাবাহিক কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রথমত, সম্মেলন ছাড়া সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা ও দ্বিতীয়ত, টেন্ডার মাফিয়া ও যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ইস্যুতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুপক্ষ বাকযুদ্ধ ও দ্বন্দ্বে জড়ায়। সূত্র বলছে, গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে নতুন আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে বিরোধ শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সেই সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথেও তারা আলাদাভাবে দলীয় বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎ করে আসছেন। সোনারগা আওয়ামী লীগের এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাদের দাবী, এই কমিটি সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের কাউকে অবগত করা হয়নি। বর্ধিত সভাতেও কোন আলাপ আলোচনা হয়নি সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির ব্যাপারে। ফলে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে অনাস্থা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী ৩৮ জন নেতা। এদের প্রায় সকলেই আইভী বলয়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। এরপর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের এই অংশটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে অনেকটাই এড়িয়ে চলছেন। আর বরাবরই তাদের অভিযোগ হচ্ছে সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ নিজেদের ইচ্ছামতোই সবকিছু পরিচালনা করে থাকেন। তাদেরকে অবগত করা হয় না। অন্যদিকে ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে টেন্ডার মাফিয়া হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত সহ সভাপতি জি কে শামীমকে বিপুল পরিমান অর্থ, অস্ত্র, মাদক, বিদেশি অর্থ সহ গ্রেফতার করা হয়। তবে জি কে শামীমকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগে প্রস্তাবিত সহ সভাপতি করা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠে তখন সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারি তা অস্বীকার করে। এমনকি তাকে চিনে না বলেও জানায়। কিন্তু ২০১৮ সালে এই জি কে শামীমের নাম প্রস্তাবিত করে সভাপতি আব্দুল হাই। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে জি কে শামীমের সাথে সভাপতি আব্দুল হাই ও সেক্রেটারী আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে দেখা যায়। এ নিয়েও দুই বলয় বাকযুদ্ধে জড়ায়। চলে তুমুল লড়াই। সূত্র বলছে, এসব ঘটনা যখন চরমে জেলা আওয়ামীলীগের দুই বলয় পৃথক পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তারা এখন একে অপরকে এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু দলের প্রধান শেখ হাসিনার আদর্শকে লালন করলেও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। যেকারণে নিজেদের ইগোকে বড় করে দেখছেন। যেকারণে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও এক হতে পারেনি।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *