আ’লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর দূরবস্থা

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটির নেতারা রাজনীতিতে সরব থাকলেও সাংগঠনিক দূরাবস্থায় রয়েছে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম পাঁচ সংগঠন। জেলা যুবলীগের কমিটি থাকলেও কমিটির নেতারা এখন আওয়ামীলীগের পদে আশিন হয়েছেন। এর ফলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে জেলা যুবলীগ। আর শহর যুবলীগ এখনো মহানগর যুবলীগ হতে পারেনি। জেলা ও মহানগর কৃষকলীগের আংশিক ও আহবায়ক কমিটি দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় কৃষকলীগের নেতাদের রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা যায় না। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি থাকলেও সংকট রয়েছে জেলা কমিটি নিয়ে। আর শ্রমিক লীগ একেক ভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন শুক্কুর মাহমুদ। জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক কমিটি শুধু মাত্র দ্বন্দ্বের কারণে পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে পারেনি। তাই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম এই চার সংগঠনের কর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তবে অচিরেই আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর যুবলীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২৩ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আর এই সম্মেলনের পরই নারায়ণগঞ্জে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে বলে জানাগেছে। আর পুনর্গঠন করা হলে দল সাংগঠনিক ভাবে আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জানাগেছে, জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা এখন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে রয়েছে। মূল দলে চলে যাওয়ার পর থেকে জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা এখন আর যুবলীগের রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের আগ মূর্হুত পর্যন্ত জেলা যুবলীগকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দেখা গেলেও, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন পর থেকে জেলা যুবলীগের কর্মকান্ড স্থবির রয়েছে। জেলা যুবলীগের শীর্ষ নেতারা মূল দলের শীর্ষ পদে থাকলেও যুবলীগের পদও ছাড়ছেন না। জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাই তারা মূল দলের রাজনীতিতেই সক্রিয় রয়েছেন। যে কারণে যুবলীগের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এছাড়া জেলা যুবলীগ নতুন করে গঠনের কোন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও জেলা যুবলীগের হাল ধরতে পারছে না নতুনরা। দুইজনের হাতে জিম্মি রয়েছে শহর যুবলীগ। শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জল পৃথক ভাবে কর্মসূচী পালন করছেন। কৃষকলীগের কমিটি থাকলেও রাজনীতির মাঠে তাদের দেখা মিলছে না। দলীয় কোন কর্মসূচীতেই সক্রিয় দেখা যায় না কৃষকলীগ নেতাদের। মহানগর স্বেচ্ছা সেবক লীগ কমিটি থাকলেও জেলা কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা কৌতুহল। গুঞ্জন ছিল অতিরেই জেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের কমিটি ঘোষনা করা হবে। তবে সেই গুঞ্জনের এক বছর পরও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন হয়নি। আওয়ামীলীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিকলীগের কমিটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে রয়েছে নানা গুঞ্জন। কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ একক ভাবে নিয়ন্ত্রনে রেখেছেন। জেলার সভাপতির পদটিও তিনি দখল করে রেখেছেন। তবে ২৩ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন নেতৃত্ব পরিবর্তন আসবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর এরপরই জেলা ও মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, যুব মহিলা আওয়ামীলীগের জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। পাল্টাপাল্টি কমিটির নেত্রীরা নিজেরাই নিজেদের কমিটি বৈধ বলে দাবী করে আসছেন। এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় কমিটিও স্থায়ী কোন সমাধান দেয়নি। তাই জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাই দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে অচিরেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের দাবী জানিয়েছেন ত্যাগী কর্মীরা।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *