বিতর্কিতদের নিয়ে ক্লিন ইমেজধারীরা বিপাকে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
টানা তৃতীয়বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। দীর্ঘ সময় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় নারায়ণগঞ্জে অনেকেই রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন। রাজনীতির ব্যবসা করে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। অনুপ্রবেশকারীরাসহ দলীয় পদ-পদবীর দাপটে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতারা টেন্ডারবাজী, হাট-ঘাট নিয়ন্ত্রণ, ঝুট ও তেল সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারসহ নানা বিতর্কিত মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয় শীষ নেতারা এদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নিলেও এবার কেন্দ্রীয় ভাবেই বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিতর্কিতের তালিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে পৌছে গেছে বলে বিশেষ একটি সূত্রে জানাগেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত নেতা ও অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। খুব গোপনীয়তার মধ্যে অনুসন্ধান চালিয়ে বিতর্কিতদের তালিকা প্রস্তুত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। শুধু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিতর্কিতদেরই নয়, মাদক ব্যবসায়ী ও শেল্টারদাতা, অবৈধ অস্ত্রধারী, গ্যাং লিডারদেরও তালিকা প্রস্তুত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে। এর আগে গত ২০১৫ সালে ঐ নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষভাবে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ এনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদ জমা দিয়েছেল একটি গোয়েন্দা সংস্থা। যা ঐসময় স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়াও ঐ তালিকায় নারায়ণগঞ্জের ২২জন পুলিশ সদস্য, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাদের নাম ছিল, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষা ভাবে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। এদিকে, আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিতর্কিতদের কারণে স্থানীয় ভাবে দলের ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিতর্কিতদের কারণে শীর্ষ পর্যায়ের ক্লিন ইমেজধারী নেতারাও এখন বিপাকে রয়েছেন। বিতর্কিতরা সংখ্যায় কম হলেও দলের ইমেজ ক্ষুন্ন করে আসছে। মূলত শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নীরবতায় বিতর্কিতরা সুযোগ নিচ্ছেন। গত দশ বছরে বিতর্কিত অনেকেই টোকাই থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। নির্দিষ্ট কোন ব্যবসা বা চাকুরী না করলেও প্রতি দিন লাখ টাকা আয় করছেন। নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। অথচ দলের স্বার্থে যারা কাজ করছেন সেই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। তাই এবার বিতর্কিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে সবচেয়ে খুশি হবেন মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতারা-এমনটাই বলছেন বিশ্লেষক মহল। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী দলে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকাও ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। একসময় জামাত-শিবির কিংবা বিএনপির সাথে জড়িত ছিল এমন যারা দলের অনুপ্রবেশ করে দলকে বির্তকিত করে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *