বিতর্কিতরা কৌশলে অপকর্ম করছে!

“আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করে তাদের অপকর্ম বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে পালিত হচ্ছে না। শীর্ষ নেতারাও মুখ খুলছে না। আমরা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে বস্তুুনিষ্ঠ তথ্যসহ সকলের সহযোগিতা চাইছি”বিতর্কিতরা কৌশলে অপকর্ম করছে!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দল থেকে বির্তকিত নেতাদের বহিস্কার করাসহ শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে আসলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের পদধারী নেতারা তা আমলে নিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, বির্তকিত ও অনুপ্রবেশকারীদের নামও তারা প্রকাশ করতে নারাজ। অথচ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে অঙ্গসংগঠন গুলিতে বির্তকিত নেতাদের অনেকেই শীর্ষ পদ দখল করে আছে। এক সময় যারা আওয়ামীলীগ তথা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করত এখন তাদের কেউ কেউ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদ দখল করে আছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এইসব বির্তকিত নেতাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানোসহ দলে অবস্থানকারীদের চিহিৃত করার আহবান জানানো সত্বেও জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক যেন মুখে কুলুপ এটে বসে আসেন। কারণ সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত নেতা ও ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই অভিযানে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিতদের নাম একে একে উঠে আসছে। এতে ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিতরা চিহ্নিত হচ্ছে যার মধ্য দিয়ে ত্যাগী নেতারা আলোচনায় উঠে আসছে। এর ফলে ত্যাগী নেতারা শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে দলের বিতর্কিত প্রভাবশালী নেতারা শুদ্ধি অভিযান ইস্যুটি কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনে বির্তকিত নেতা কর্মীরা বহাল তবিয়তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, রাজধানী সহ সারা দেশের শুদ্ধি অভিযান চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরাও এই শুদ্ধি অভিযানের জালে আটকা পড়ছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন বিতর্কিত নেতাও গ্রেফতার হয়েছে। ইতোমধ্যে ফতুল্লার ইউনাইটেড ক্লাবে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে ৭ জুয়ারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে করে শুদ্ধি অভিযানের পক্ষে দাবি জানিয়ে আসছে দলের ত্যাগী নেতারা। কারণ শুদ্ধি অভিযানের দলের বিতর্কিত নেতা ও ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে যা দল, সমাজ ও জাতির জন্য নিঃসন্দেহে মঙ্গল বয়ে আনবে। গত ৩ অক্টোবর রাতে ফতুল্লায় দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামিদের কাছ থেকে ৩ বান্ডেল কার্ড, নগদ ২০ হাজার ৫শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ইউনিট। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জানা গেছে। সেলিম প্রধান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েমের চাচাতো ভাই। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে রাজধানীর নিকেতনে তার কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। তাছাড়া রাজধানী সহ সারা দেশের শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ দলের বিভিন্ন বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগের ভেতরে অনুপ্রেবেশকারীরা ঢুকে আমাদেরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। যারা দলের ভেতরে থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, সন্ত্রাসী করে, মস্তানী করে, চাঁদাবাজি করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যারা এখনো এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদেরকে হুশিয়ারি করে বলতে চাই দেশ কিন্তু আগের মত নাই, শেখ হাসিনা এমন শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে যে অভিযানে অনেক রুই কাতলারাও ধরা পড়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন এজন্য স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই সারা বাংলাদেশে যেভাবে অভিযান চলছে জুয়া, মদ, ক্যাসিনো চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও যেন তৎপর হয়। দল ক্ষমতায় এলে বহু লোকজন দলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনের সহযোগিতায় অনেক অপকর্ম করে থাকে। আমার চাই না বর্তমান প্রশাসন সেই সুযোগটা দেক। আমরা জানি বর্তমান প্রশাসন অনেক ভালো কাজ করে যাচ্ছে। দলের যে কোনো পর্যায়ের ব্যক্তি যদি কোনো কাজে জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের বিতর্কিত নেতারা শুদ্ধি অভিযানকে বেশ কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা নানা টালবাহানা করা সহ অন্য ইস্যুতে কথা বলছেন যাতে করে পুলিশ প্রশাসন সহ শুদ্ধি অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্টদের চিন্তাধারা ভিন্ন দিকে প্রভাবিত হয়। তাই শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা সহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে শুদ্ধি অভিযানের ইস্যুটি অনেকে প্রভাবশালী নেতা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তারা এই ইস্যুতে পক্ষে নেয়াতো দূরের কথা কোন কথাই বলতে চাইছেননা। বরং কৌশলে অন্য ইস্যুতে তারা কথা বলছেন। বাস্তবতা হলো আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা বির্তকিতদের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পরও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের বির্তকিতরা শুধু বহাল তবিয়তে নয় বরং গণমাধ্যমকে বিভিন্ন কায়দায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *