না’গঞ্জ আ’লীগে অনুপ্রবেশকারীরা বেপরোয়া

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত সবখানেই এখন আলোচনার শীর্ষে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই অভিযানে একশ্রেণির প্রভাবশালীরা নাখোশ হলেও সারাদেশের সাধারণ মানুষ অনেক বেশি খুশি। অভিযানে দেশের মানুষ সমর্থন দিচ্ছে। জনগণের কাছে সরকার ও আওয়ামী লীগ উজ্জ্বল হচ্ছে। দলের আদর্শিক ও ত্যাগী নেতারাও এ ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দল থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। তবে এই অভিযান আরো বিস্তৃত হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার স্পষ্ট ঘোষণা, ‘ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, একে একে সকলকে ধরব।’ ইতিমধ্যে দলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারায়ণগঞ্জের জি কে শামীম ও সেলিম প্রধান শত শত কোটি টাকাসহ গ্রেফতার হলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে এখনো শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়নি। বরং দলে অনুপ্রবেশকারীরা শুধু বহাল তবিয়তে নয়, বরং একের পর এক বির্তকিত কর্মকান্ড করে দলকে প্রশ্নের সম্মুখিন করে তুলেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের পদে থাকা নেতারাও এ ব্যপারে কোন পদক্ষেপতো দূরের কথা মুখই খুলছেন না। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ। কারণ বির্তকিত অনেকেই জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ থেকে শুরু করে অঙ্গসংগঠনের পদ পদবী দখল করে আছে। এদেরই একজন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল। যার পূরো পরিবারই আওয়ামী বিরোধী পরিবার হিসাবে পরিচিত। যদিও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের দাবি নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পদ পদবীর সাথে জড়িত কেউ কখন অন্যদল করেনি। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ নিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা বিএনপি,জামাত কিংবা অন্যদল থেকে আওয়ামী লীগে এসে পদ পদবী নিয়ে দলের ভেতর প্রভাব বিস্তার করে নানা অপকর্ম করছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে শুরু করেছে। ভিন্ন দল থেকে এসে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ দখলের মাধ্যমে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে যে ক’জন নেতা রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী। মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার সাথে সখ্যতা রেখে মীর সোহেল ফতুল্লায় অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় রয়েছে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী এবং কিশোর গ্যাং। এছাড়াও সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীদের অন্যতম শেল্টারদাতা হিসেবে তার নাম উঠে এসেছে। বিএনপি থেকে আসা এই নেতাই এখন ফতুল্লার আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে আর্ভিভূত হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। রাজনীতির শুরু থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়ে তিনি আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। ফতুল্লার দাপা ঘাটস্ত কেরানীগঞ্জের এক আওয়ামী লীগ নেতার মার্কেট দখলের অভিযোগে যুবলীগ থেকে বহিস্কারও হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া সুবিধা বুঝে নেতা পাল্টানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মীর সোহেলের অনেক সহযোগীই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত। ২০১৫ সালে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা নারায়ণগঞ্জে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত এমন রাজনীতিক ও কতিপয় পুলিশ সদস্যদের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছিল। ঐসময় তালিকায় থাকা নামসহ গুরুত্ব সহকারে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায়ও নাম ছিল মীর সোহেলের। অথচ মীর সোহেল মাদকের সাথে সম্পৃক্ত না বলে দাবী করে আসছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যে ক’জন ভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে বিতর্কীত এবং কুলসিত করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম মীর সোহেল আলী। তার পুরো পরিবার জুড়েই বিতর্ক। মুন্সিগঞ্জ থেকে ফতুল্লায় আসার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়ে মীর সোহেলের বাবা মীর মোজাম্মেল আলী গ্রাম সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় থেকেই মীর সোহেল তার ছোট ভাই ফয়সাল, ফুপাতো ভাই হারুন অর রশিদ আরিফ ওরুফে বাঘা আরিফ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ৯০ দশকের শুরুর দিকে ডাব ও মুরগী চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ মোল্লার মাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। মীর সোহেল ও তার ভাইদের মরধরে হানিফ মোল্লার মায়ের দাঁত পরে যায়। বৃদ্ধ মহিলাকে লাঞ্চিত করাসহ তাদের বিতর্কীত কর্মকান্ডের কারণে ফতুল্লার লালপুর এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে পঞ্চায়েত কমিটি বিচার ডাকেন। ওই বিচারে মীর সোহেল ও তার ভাইসহ মামাত ভাই বাঘা আরিফ দোষি প্রমাণিত হয়। এসময় বিচারকদের রায়ে মীর সোহেলকে ১শ জুতা, তার ছোট ভাই ফয়সালকে ১শ জুতা ও তার ফুপাতো ভাই সন্ত্রাসী বাঘা আরিফকে ১শ জুতা মারা হয়। এসময় মীর সোহেলের বাবা মীর মোজ্জাম্মেল আলী হাত জোর করে বিচারকদের সামনে ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তার পুত্রদ্বয়ের অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে পঞ্চায়েতের কাছে ক্ষমা চান। এসময় পঞ্চায়েত কমিটি মীর সোহেলের পরিবারকে সমাজ চুত্য করেন এবং ১ মাসের মধ্যে লালপুর ত্যাগ করার রায় প্রদান করেন। কিন্তু মীর মোজাম্মেল আলী উপস্থিত বিচারকদের কাছ থেকে ৩ মাসের সময় চেয়ে লালপুর ত্যাগ করে ফতুল্লা মাজারের পেছনে চলে আসেন। এ ঘটনার কয়েক বছর পর ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফতুল্লা থেকে বাস যোগে মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটিতে বিএনপির এক মিটিং যাওয়ার পথে চাষাঢ়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মীর সোহেলকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। এ ঘটনার কিছুদিন পর মীর সোহেলর ছোট বোন জামাতা টিপু সুলতানের মধ্যস্ততায় ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় শামীম ওসমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়ে থাকলেও পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মধ্যস্থতা করে এলাকায় ফিরে আসেন এবং যুবলীগের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। ১/১১ সরকারের সময়ে মীর সোহেলের বাবা মীর মোজাম্মেল আলী পুত্রের প্রভাবে ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি হয়ে থানার এক নম্বর দালালে পরিনত হয়। এখানেই শেষ নয়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সুবিধা বুঝে তৎকালীন সাংসদ কবরীর বলয়ে চলে যান মীর সোহেল। তার বাবা মীর মোজাম্মেল আলী নিজে সাংসদ কবরীর হাতে মীর সোহেলকে তুলে দেন। সাংসদ কবরীর বলয়ে চলে যাওয়ার পর ফতুল্লার দাপা ঘাট এলাকার অবস্থিত কেরানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা রশিদ-কাশেমের ঘাট এবং দোকান দখল করে নেয়। এ ঘটনায় মীর সোহেল ফতুল্লা থানা যুলীগের সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার হোন। যুবলীগ থেকেও পদ হারিয়েও তিনি দমে যায়নি। ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হকের বড় ভাই হামিদুল হকের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। যা পরে মুচলেকা দিয়ে বেরিয়ে আসেন। এ ব্যপারে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, তার কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল কখনো অন্য কোন দল করেনি। মীর সোহেল ও তার পরিবার আওয়ামীলীগের পরিবার হিসাবে পরিচিত। মীর সোহেল ছাত্রদল করত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার ও তার পরিবারের বিএনপি করার প্রশ্নই উঠে না। মীর সোহেল ছাড়াও নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত কেউ কখনো অন্য দল করেনি। এখানে অনুপ্রবেশের প্রশ্নই উঠে না। আমরা এ কারণে পাঠকদের সামনে খালেদা জিয়া, মান্নান ভ’ইয়ার সাথে মীর সোহেলের ছবি ছেপে বলতে চেয়েছি ছবি কথা বলে। চলবে…….।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *