সম্পর্ক বজায় রেখেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন এসপি হারুন

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একের পর এক আলোড়ন সৃষ্টি করে যাচ্ছেন তিনি। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনছেন তিনি, যা অন্য কারও বেলায় তা হয়ে উঠেনি। একই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথেও ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, ভূমিদুস্য ও মাদক ব্যবসায়ী সহ নানা অপরাধারীরা পুর্লিশের জালে আটকা পরলেও নারায়ণগঞ্জের কোনো সংসদ সদস্যের সাথেই পুলিশ সুপারের সম্পর্কের কোনো অবনতি ঘটছে না। সংসদ সদস্যের যে কোনো সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার একই সাথে পুলিশ সুপারেরও যে কোনো সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন সংসদ সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জের সকল সংসদ সদস্যের সাথেই রয়েছে তার অকৃত্রিম সম্পর্ক। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর পরই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সাংসদের সাথে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ফুটবলের ম্যাচের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংসদের সাথে সম্পর্কটাকে আরও ঘনিষ্ট করে তুলেন। পুলিশ সুপার নিজে স্বশরীরে ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন যা একটি অনন্য নজিরই বলা চলে। জানা যায়, রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ট। প্রায় সকল অনুষ্ঠানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসপি হারুন অর রশিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের মন্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর যে কোনো বিষয়েই পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ছুটে যান। যার ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ মাঠে এসপি একাদশের সাথে মন্ত্রী একাদশের ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসপি নিজে ফুটমাঠে খেলে মন্ত্রী একাদশকে হারানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী একাদশের সাথে পেরে উঠতে না পেরে ২-১ গোলে পরাজিত হন। তবে এতে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন এসপি হারুন। এদিকে আড়াইহাজার আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর সাথেও রয়েছে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক। যার সূত্র ধরে ‘মাদককে না বলুন এবং গুজবে কান দিবেন না’ স্লোগান নিয়ে গত ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জেলা পুলিশ আয়োজনে পুলিশ সুপার একাদশ বনাম এমপি একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসপি হারুন বলেন, প্রিয় সংসদ সদস্য আমার শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই। একসময় আমরা ছাত্রজীবনে তাকে নেতা হিসেবে মনে করতাম। সে আমাদের প্রিয় একদিকে পুলিশের নেতা অন্যদিকে পুলিশের বাহিরে আমাদের ছাত্র জীবনে আমাদের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাবু। একই ভাবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম এলাকা কালাপাহাড়িয়াতে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখাতে গিয়ে এসপি হারুন বলেন, আজকে এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন আপনাদের প্রিয় নেতা, প্রিয় মানুষ। ইউনিভার্সিটির সময়ে তিনিও আমার নেতা ছিলেন। ভাগ্যক্রমে আমি এখানকার এসপি। আর ওনি বার বার নির্বাচিত এমপি। অন্যদিকে গত ২৯ জুন সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা একাদশ বনাম জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ একাদশের মধ্যকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার উদ্যোগে এবং সোনারগাঁ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে সোনারগাঁ স্টেডিয়ামে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ফুটবল ম্যাচের মাধ্যমেও লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের অকৃত্রিম সম্পর্ক ফুটে এসেছে। তাছাড়া ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথেও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের বাস ভবনে আসেন ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান। পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সঙ্গে পান্তা ইলিশ সহ মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন এমপি শামীম ওসমান। একই সাথে গত ২৭ এপ্রিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শততম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার হারুন রশিদ বলেন, ‘আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম তখন আমরা শামীম ওসমানকে হিরো হিসেবেই জানতাম হিরো হিসেবেই জানি। তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রিয় নেতা।’ এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ বার্তা দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে যান ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে বৈঠক চলে। সেই সাথে সবশেষ ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহার বাসায় পূজার দাওয়াতে উপস্থিত হয়েছিলেন এমপি শামীম ওসমান ও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। লিটন সাহার অতিথি কক্ষে একই সোফাতে বসা ছিলেন শামীম ওসমান ও পুলিশ সুপার হারুন। পরে তারা একত্রে খাওয়া দাওয়া করেন। একইভাবে সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথেও রয়েছে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের অকৃত্রিম সম্পর্ক। গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি সভায় অংশগ্রহণ করেন সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসামান। তিনি সেখানে এসপির প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, এসপি হারুন স্ট্রং পুলিশ সুপার। তার কারনে নারায়ণগঞ্জ সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারী একেএম শামসুজ্জোহার ৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এসপি হারুন অর রশিদকে ক্ষমতাধর হিসেবে হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। গত শনিবার দুপুরে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, এখনকার মন্ত্রী এমপিদের সাথে আমাদের সখ্যতা রয়েছে। সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ভাল মানুষ। তিনি প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে অনুদান দিয়েছেন। এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। সারা বাংলাদেশে যদি এটা করা যেত তাহলে খুবই ভাল হতো।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *