বিএনপিতে স্বেচ্ছাচারিতা বাড়ছে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে সাধারণ কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের দায়িত্ব অবহেলায় কর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। নেতারা রাজপথে না থেকে কোন্দরে জড়িয়ে পড়েছেন। দলের এই ক্রান্তি সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে কোন্দল চরমে চলে গেছে। পদপদবী নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। দলের কোন কর্মকান্ডে এমন নেতারা দলের শীর্ষ পদে থকায় এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ বর্হি:প্রকাশ ঘটতে শুরু করেছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলে জানাগেছে। তাই আগামী দিনে আন্দোলন কর্মসূচিতে পদধারী নেতারা যদি মাঠে না নামেন তা হলে তাদের পদ ছেড়ে দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে আহবান জানাতে শুরু করেছে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মীদের অভিযোগ, বিএনপির পদধারী নেতা পদে থাকলে আন্দোলন কর্মসূচিতে দেখা যায় না। অনেক পদধারী নেতাকে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাদের তোষামোদি আর দালালি করে আরাম আয়েশে থাকছে। অনেক কর্মী আন্দোলন করতে গিয়ে এখন সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। বিএনপির তৃনমূলের একাধিক সূত্রে জানাগেছে, বিগত দিনে যারা কর্মসূচিতে মাঠে ছিল না অথচ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকে তাদের অনুষ্ঠানে যাওয়া থেকে শুরু করে রাজনীতিতে তাদেরই প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তৃনমূলের অনেক নেতার নিষেদের পরও শীর্ষ নেতারা তা মানছে না। এ নিয়ে দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বোদ্ধা মহলের মতে, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্বের পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতি থেকে বিরোধ মিটবে না। সূত্রমতে, দিনে দিনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। দলের হয়ে যারা আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলা, জেল, নির্যাতনের শিকার হয়েছে এখন সে সমস্ত নেতারা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে মূল্যায়ন পাচ্ছে না। বরং দলের পদ দখলে রেখে ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁত করে রাজনীতি করছেন। এরা দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অনুষ্ঠানে ঠিকই উপস্থিত থাকছেন। আর এ নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে কোন্দলের বীজ বপন হতে শুরু করেছে। জেলা ও মহানগর বিএনপির চলমান বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে দলের ত্যাগী নেতাদেও যথাযথ মূল্যায়ন না করা নিয়ে। এদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজস্ব বলয় তৈরী করে বিএনপির রাজনীতিতে একাধিক ভাগে বিভক্তি করে রাখার কারণে দলী কর্মসূচি পালনে সফলতা আসেনিমূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ সংগঠনের অনেক নানা অজুহাতে রাজপথ থেকে দূরে রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিরোধ কবে মিটবে? এ প্রশ্ন এখন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতাদের বিরোধ ও কাঁদা ছোড়াছুড়ির কারণে অনেকটা অতিষ্ট হয়ে পরেছে। যে কোন বিষয় নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বিরোধে জড়িয়ে পরছে। এ কারণে বিএনপির বিরোধ বাড়ছে না ছাড়া কমছে না।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *