নারায়ণগঞ্জে রেলের জায়গায় পার্ক করে বিপাকে মেয়র!

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ রেলওয়ের দখলকৃত জায়গা পরিদর্শন করতে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলের কর্মকর্তারা। এসময় তারা রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে উঠা শেখ রাসেল নগর পার্ক ও জিমখানা এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ৩২টি রেলওয়ে কোয়াটার ভাংচুরের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে শত শত কোটি টাকার রেলওয়ের জায়গা বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল নামে বেনামে জবর দখল করে আছে। অচিরেই এইসব জমি উদ্ধারে রেলওয়ে অভিযান শুরু করবে। রেল কর্তৃপক্ষ বলেন, রেলওয়ের এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড় দেয়া হবে না এবং সকল জায়গা রেলের অধিকারে আনা হবে। ১২ অক্টোবর শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের জি এম মোঃ নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এই পরিদর্শনে আসেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রেল পথ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের নিজস্ব জমি ও স্টাফ কোয়ার্টার দখল করে নেয়ার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, “আমাদের জায়গা আমাদের দখলে রাখতে যা ব্যবস্থা করার দরকার আমরা করবো। পার্ক করতে হলে সেটা সঠিক প্রসেস মোতাবেক করতে হবে, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায় আছে সেখানে করুক, রেলওয়ের জায়গায় কেন? জোর করে করবে নাকি?” তিনি বলেন, “জিমখানায় আমাদের স্টাফ কোয়ার্টারের ভাংচুর ও দখলের ঘটনায় আমরা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২টি মামলা করেছি। রেলের জায়গা রেলের নিয়ন্ত্রনেই থাকবে, নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের এক ইঞ্চি জায়গাও আমরা হাতছাড়া করবো না”। গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের শেখ রাসেল নগর পার্ক, জিমখানা কলোনী, জিমখানা আলাউদ্দিন খান ষ্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকাগুলো পরিদর্শন কালের রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এখানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩৩ একর জমি রয়েছে। এখানে কিছু ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি কিছু কোয়াটার রয়েছে আমাদের। এ পার্ক কারা করেছে আমরা তা জানিনা। আজকে আমরা রেলওয়ের জমিগুলো দেখতে এসেছি। আমাদের জমি কাউকে অবৈধভাবে দখল করতে দেয়া হবে না। রেলওয়ের সকল অবৈধ জায়গাগুলো উদ্ধার করে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রনে আনা হবে। গণ মাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা বলেন, শেখ রাসেল নগর পার্কটিও বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় পড়েছে। শেখ রাসের নগর পার্ক নির্মাণের পূর্বেই রেলওয়ের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কিভাবে এই পার্কটি করেছে একমাত্র তারাই জানে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর পাবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের চীফ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তুহিন, ডিআরএফ ডিভিশনাল ম্যানেজার এম সালাউদ্দিন, রেলওয়ে পুলিশের এএসপি জহির উদ্দিন, চীফ ইন্সপেক্টর অস্ত্র শাখা মোঃ শহিদুল্লাহ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। রেল কর্তৃপক্ষের দাবী, দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী কোন সরকারী সম্পত্তি অন্য কোন সরকারী বা বেসরকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল লিজ বা দখলভোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এ জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এমনকি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দখলে বাধা দিতে গেলে তাদের উপর এক্সাভেটর (ভেকু) তুলে দিয়ে চাপা দেয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে এব্যাপারে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। মামলার এজাহারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট কোয়ার্টারগুলোও ভাঙ্গার পায়তারা করছে বলে আশংকা করা হয়। দখলকারী বহিরাগতরা নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর কর্মী বলে রেল কর্মকর্তা দাবী করছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দাবী, জায়গাটি বরাদ্দ চেয়ে করা আবেদনের সাড়া না পেয়ে জনস্বার্থে এই জায়গাটি দখল করা হয়েছে। কিন্তু রেলের সরকারী জায়গা জনস্বার্থে দখল করার কোন এখতিয়ার রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের কোন জবাব পাওয়া যায়নি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। জানা গেছে, নগরীর পুরাতন জিমখানা রোডে রেলওয়ে কলোনীর এ স্থানটিতে অর্ধশত বছরের বেশী সময় ধরে রেল কর্মচারীগণ বসবাস করতেন। গত ৫ অক্টোবর দুপুরে কলোনী ভাঙতে এসকেভেটরসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাড়াও প্রায় ৫০ থেকে ৬০জন বহিরাগতরা অবস্থান নেন। সেখানে ৩২টি বাসা ও বাড়ীতে থাকা লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় ভাঙচুর ও দখল কার্যক্রম। এসময় বসবাসকারীরা তাদের জিনিসপত্রও ঘর থেকে বের করতে পারেননি। এমনকি রক্ষা পায়নি সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের বই-পুস্তকও। এক কাপড়েই বের হতে হয়েছে সেখানে থাকা প্রায় অর্ধশত পরিবারকে। রেল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে নাসিকের সার্ভেয়ার কালাম মোল্লা, আইন কর্মকর্তা জিএম সাত্তার, পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০জনকে। মামলায় বলা হয়, অবৈধভাবে দখলের সময় রেলওয়ের জিআরপি পুলিশ, রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহনীর (আরএনবি) লোকজন ও রেলের বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বাধা প্রদান করলেও বহিরাগত স্থানীয় লোকজনের কারণে তারা টিকতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, সংস্থা দুটিই সরকারী প্রতিষ্ঠান। আর নিশ্চয়ই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নোটিশ ছাড়া এসব স্থান ভাঙ্গতে পারে না। তবে বিষয়টি ভালভাবে যাচাই করতে (পরিদর্শক তদন্ত) গোলাম মোস্তফাকে ভাল করে খোঁজ নিতে ও কেনো এমন হলো তা বের করতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে এর মধ্যেই কিভাবে বা কোন আইনে এসব কোয়ার্টার ভাঙ্গা হয়েছে তা জানতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করতে বলা হয়েছে। তবে উভয়ই সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যপারে নগরবাসীর মন্তব্য নারায়ণগঞ্জে একটি সুন্দর বিনোদনের জায়গা করে আইনগত কারণে নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী এখন অনেকটাই বিপাকে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *