নারায়ণগঞ্জের আলামত সুখকর নয়!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সভা সমাবেশে এমনকি সংবাদ সম্মেলন করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, অপরাধী আমার দলের হোক আর যেই দলের হোক তাকে গ্রেফতার করা হোক। এছাড়া আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বারংবার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আওয়ামীলীগে অন্য দল থেকে আসা কোন নেতাকর্মীর স্থান নেই। প্রয়োজনে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংঠনের প্রতিটি নেতাকর্মীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সম্পর্কে মিডিয়ার মাধ্যমে বার বার তাগিদ দেয়া সত্বেও রহস্য জনক কারণে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করার তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমনকি গণমাধ্যম যখন প্রমাণপত্রসহ অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করে দলের প্রভাবখাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করছে তখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা অনেকটাই নিশ্চুপ বলা চলে। অথচ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের হাতে গুনা কয়েকজন বির্তকিত নেতাকর্মী ছাড়া অধিকাংশই দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এমনকি বারংবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপি জামাতের বিরুদ্ধে রাজপথে কর্মীদের নিয়ে যেসব নেতা আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন, তারাও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ। অপর দিকে কতিপয় শীর্ষ নেতা দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা পদ পদবীধারী নেতার বির্তকিত কর্মকান্ড নিয়ে বিভিন্ন আড্ডাখানায় বসে চায়ের কাপে ঝড় তুললেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। সবমিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ যেন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। এদিকে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলার এক শীর্ষ নেতা একে অপরকে দায়ি করে বলেন, ওমুক লোক আমার নয়-সে অন্য নেতার কোঠায় এসেছে। যে এসেছে সে যে বির্তকিত কর্মকান্ড করছে এ ব্যপারে কিছু বলতে নারাজ। অথচ মাঠ পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরা দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করে তাদের বির্ককিত কর্মকান্ডের কারণে দল থেকে বহিস্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থার দাবির কথা বললেও নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা এ ব্যাপারে তেমন কোন আমলে নিচ্ছে না। এতকিছু বলার কারণ হলো গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অফিসে এসে পরস্পর বিরোধী দুটি সংবাদ দেখে মনে হলো নারায়ণগঞ্জে যেন এক শ্রেণীর অপরাধী মামলার সংস্কৃতিতে মেতে উঠেছে। পাশাপাশি একটি আশার খবর হলো নারায়ণগঞ্জে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরা এক টেবিলে বসেছে। খবরটি নি:সন্দেহে অন্যের কাছে গুরুত্ব বহন না করলেও আমার কাছে গুরুত্ব মনে হয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকদের দলমতে ভিন্নতা থাকতে পারে সুখে দু:খে তারা এক সাথে থাকবে এই অঙ্গিকার নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা একত্রিত হয়েছিল। পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অনেকবার আমি আবেদন নিবেদন জানিয়েছি। দেরীতে হলেও তাদের এই উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গিকার নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে উঠলে তাতে সমাজ যেমন উপকৃত হবে তেমনই বতর্মান প্রজন্মের গণমাধ্যম কর্মীরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লিখতে সাহসী হবে। তবে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতায় যারা জড়িত তারা যাতে এই সংগঠনে ঢুকতে না পারে সেদিকে উদোক্তাদের সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি অপর একটি সংবাদ হলো বৃহস্পতিবারই ৭টি পত্রিকার ১৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একজন বাদী ১৪ জনের বিরুদ্ধে ও অপরজন ২জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা দু’টি আদালতে থাকায় এ সম্পর্কে কোন মন্তব্য না করেই বলতে চাই ডান্ডিবার্তার বিরুদ্ধে জনৈক মীর সোহেল যে মামলা করেছে তাতে বলা হয়েছে, অসত্য তথ্য ও সংবাদ প্রকাশ করায় তার নাকি মানহানী হয়েছে। তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও মান্নান ভ’ইয়াকে ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের নেতা হিসাবে যে তান্ডব করেছেন, তার কিছুই ডান্ডিবার্তা লিখেনি। ডান্ডিবার্তা শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার সাথে তার ছবি ও বির্তকিত কিছু কর্মকান্ড প্রকাশ করেছে মাত্র। আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদ দখল করে ফতুল্লায় যেসব অপকর্ম ও বির্তকিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছে তাকি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা কিছুই জানে না? অথচ ফতুল্লায় একবার ঘুরে এলেই মীর সোহেলের বির্তকিত কর্মকান্ড ও তার পরিবারেরসহ তার রাজনৈতিক ইতিহাস খুব সহজেই জানতে পারবেন বলে আমাদের বিশ^াস। হামলা মামলার ভয় অতীতেও করিনি এখনো করিনা। হত্যার চেষ্টা থেকে শুরু করে একাধিক বার আমার উপর যে হামলা হয়েছে তা বর্তমান সময়ের রাজনীতিকদের জানা না থকলেও নারায়ণগঞ্জবাসী কিন্তু ঠিকই জানে। বিএনপির শাসনামলে একজন সাংসদের নির্দেশে ২৯টি মামলা আমার বিরুদ্ধে দেয়ার পরও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে আমার কলম থামেনি। আর আওয়ামীলীগের শাসনামলের ১১ বছরে মামলার সংখ্যা এখনো বিএনপির ৫ বছরের মামলার সংখ্যাকে ছাড়ায়নি। দৈনিক ডান্ডিবার্তা ও ইত্তেফাকের অনেক সংবাদই নারায়ণগঞ্জের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সামান্য হলেও সহায়তা করেছে যার পরিনতিতে এধরণের মামলা হবে এতে আমি বিচলিত হইনি। তবে একই দিনে সম্পাদক প্রকাশকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ এ অবস্থা চলতে থাকলে বর্তমান প্রজন্ম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে ভয় পাবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ নারায়ণগঞ্জে কোন সংবাদ প্রকাশ হলেই এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ ও বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িতরা পেশাদার সাংবাদিকদের জড়িয়ে মামলা করেন। এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাধীনতার পক্ষের দুই তরুণ নেতা। তারা অপসাংবাদিকতার সাথে যারা জড়িত তাদের পক্ষে নয় বরং যারা প্রকৃত অর্থেই পেশাদার সাংবাদিক তাদের পাশে দাঁড়াবেন এমনটা আশা করা আমার জন্য নিশ্চয়ই দুরাশা নয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন অপরাধী ও বির্তকিত ব্যক্তিদের লাগাম টেনে ধরবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি। কারণ অপরাধীরা মামলার আড়ালে যদি পার পেয়ে যায় তা হলে সমাজে তারা নতুন উদ্যোমে আবার অপতৎপরতা শুরু করবে তখন অনেকেই ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কলম ধরতে সাহস পাবেনা। তাই বলছি এই মামলার আলামত দেখে মনে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যত আলামত সুখকর নয়।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *