কালামের রাজনীতি হুমকির মুখে

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে অনেক হিসেবে নিকেশই উল্টে যাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নির্বাচনে মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অনেকেরই নতুনভাবে উদয় ঘটবে আবার অনেকের জন্য বিদায় ঘণ্টার বাজারও সম্ভাবনা রয়েছে। তারই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে বিদায় হয়ে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে হুমকিতে পরে যাবেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্লীন ইমেজের লোক হিসেবে পরিচিত এস এম আকরাম ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ থেকে সদর-বন্দর আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক নির্বাচিত হন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এস এম আকরাম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এরপর থেকেই তিনি জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতি থেকে নিস্ক্রীয় হয়ে যান। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে এস এম আকরাম পক্ষ নেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর। নির্বাচনে আইভী জয়লাভের পরদিন তিনি জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি যোগ দেন মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যে। নারায়ণগঞ্জের সাথে তার যোগাযোগ কমে যায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর দশম নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। কিন্তু ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। উপ নির্বাচনে নাসিম ওসমানের ছোট ভাই সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেন এস এম আকরাম। কিন্তু এই নির্বাচনে সেলিম ওসমানের সাথে তিনি পেরে উঠতে পারেননি। এরপর থেকে সংসদীয় এলাকায় এস আকরামের তেমন এক দেখা পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে আসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেন এস এম আকরাম। একই সাথে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করারও ইচ্ছা পোষণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মনোনয়নও পেয়ে যান। তবে এবার আওয়ামীলীগ কিংবা স্বতন্ত্র নয়। এবার সরাসরি আওয়ামীলীগের বিপরীতে গিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতিকে মনোনয়ন পান। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি। জীবনের প্রায় শেষ বেলায় এসে সংসদ সদস্য হয়ে উঠার স্বাদ মেটেনি। এবারেও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোটের মনোনীত লাঙল প্রতিকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের সাথে বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। এমনিতেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এস এম আকরামের তেমন একটা আলাপ আলোচনা থাকে না। একই সাথে নারায়ণগঞ্জে তার আনাগোনাও কম থাকে। সেখানে তার শোচনীয় পরাজয় প্রায় বলা চলে নারায়ণগঞ্জ থেকে তার বিদায়ের ঘন্টা বাজা। জয়ী হতে পারলে হয়তো নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে তিনি জায়গা করে নিতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ক্ষেত্রেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে টিকে থাকা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তার তেমন কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি এস এম আকরামকে মনোনয়ন দিলেও আবুল কালাম তার প্রচার প্রচারণায় নামেনি। তার অনুসারিরাও এস এম আকরামের পক্ষে নামেনি। বরং তারা এস এম আকরামের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর বন্দরের সোনাকান্দায় জাতীয় এক্যফ্রন্টের নির্বাচন সভাতেও আবুল কালামের দেখা মিলেনি। যেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই সভায় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও আবুল কালাম প্রায় অনেকটা এড়িয়ে গেছেন। অথচ এই সভায় সভপতিত্ব করার কথা ছিল আবুল কালামের। তার সাথে সাথে মহানগর বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও তেমন ছিল না। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ভবিষ্যত রাজনীতিতে আবুল কালামের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *