সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করছে: রাব্বি

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমি মা হিসেবে বিচার করব। আমরা কিঞ্চিত আশ্বস্ত হলাম। কিন্তু বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলাম না। কারণ আপনি মা হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি দিলেন কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রপতি যদি পিতা হিসেবে ক্ষমা করে দেন তাহলে এর কি মূল্য রইলো।” গতকাল সোমবার সন্ধা ৬টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর আয়োজিত সমাবেশ ও আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। রাব্বি আরো বলেন, তিনি পিতা হিসেবে এই অপরাধীদের কখনই ক্ষমা করবেন না এটি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আমরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন ঘটনায় দেখেছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদেরকে খুন করা হয়েছিল হত্যার আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে যেমন বেরিয়ে গেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড আমরা দেশবাসী দেখলাম। উচ্চ আদালত থেকে ফাঁসির আদেশ আসার পরেও তাদের কি হয়েছে? কাকে ধরা হয়েছে? সুতরাং সারা বাংলাদেশে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে প্রমশিত করার জন্য ছলচাতুরির আশ্রয় গ্রহণ করলে সরকারের জন্য এটি ভালো হবে না। তিনি আরো বলেন, আবরার ফাহাদের এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা রাষ্ট্রের নৃশংস চরিত্র উন্মোচিত হতে দেখলাম। আবরার মৃত্যু বরণ করার পর দেশে এবং আদৌ পর্যন্ত বিদেশে বিভিন্ন প্রতিবাদ হচ্ছে। একটি গান রয়েছে ‘সব মরণ নয় এক সমান’। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তেমনি আরো অনেককে এভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু আবরার ফাহাদের মৃত্যু আলাদা। কারণ সে দেশের স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নিজের কথা মনের কথা, জনগনের কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার দেখলাম। সরকার, রাষ্ট্র তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে যে কথা, যে মতামত রয়েছে সেগুলো দমানোর জন্য কিভাবে নৃশংস হয় এবং জামাত শিবির আখ্যা দিয়ে তাঁরা যুক্তি উত্থাপন করে। রাব্বি আরো বলেন, ‘আবরার মৃত্যু বরণ করার পরে বহু ভাবে তাঁকে শিবির বানানো চেষ্টা হয়েছে। সেই কুষ্টিয়ার এসপিকে দিয়েও বলিয়েছে। সরকারের বিপক্ষে যারাই কথা বলে, যারাই সমালোচনা করে তাঁদেরকে জামায়াত শিবির স্বাধীনতা বিরোধী ইত্যাদি বলে জঙ্গি বলে দমন করার চেষ্টা করে। এবং অনবরতভাবে তাঁরা এটা করছে। জঙ্গি যারা তাঁরা যেমন বিভৎস, সরকার তাঁদের বাহিনীকে বিভৎস হওয়ার জন্য অনুপ্রানিত করছে। তিনি আরো বলেন, আবরার হত্যাকান্ড বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জেনেছে তাঁরা প্রতিবাদ করেছে। আমাদের দেশেও জাতিসংঘ থেকে শুরু করে অনেকে প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু তাঁদের এই প্রতিবাদে সরকার আবার ব্যথিত হচ্ছে। এটা তাদের ভালো লাগছে না। অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাকি নাক গলাচ্ছে। তাঁরা বলে, ‘আমেরিকা প্রতিবাদ করে অথচ আমেরিকাতেও এমন ঘটনা ঘটে।’ অথচ আমেরিকা এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। রাব্বি আরো বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে কায়দায় বিরোধী দলকে দমনের জন্য পুলিশ বাহিনী সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করছে। এটিকে কোনো ভাবেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র আমরা বলি না। স্বৈরশাসকের যা চরিত্র, বৈশিষ্ট থাকা দরকার বর্তমান সরকারের তা সপূর্ণ রয়েছে এবং তা তাঁরা করছে। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের নাম বলে একদিকে যেমন সাম্প্রদায়কে উসকে দিচ্ছে আবার বিরুদ্ধ মতকে দমনের জন্য আলবদর, রাজাকার খেতাব দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, আমি পত্রিকায় দেখেছি আবরার বাড়ি থেকে হোস্টেলে এসেছে পড়ালেখার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই জায়গাটা নিরাপদ রাখতে পারে নাই। বর্তমান সরকার ছাত্রলীগকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে যে ছাত্রলীগে একসময় জয় বাংলা বলে যুদ্ধের নামতো এখন সেই ছাত্রলীগ জয় বাংলা বলে মানুষ হত্যা করে। এটা হলো ছাত্রলীগের বর্তমান অবস্থা। নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল লেখক সংঘের সভাপতি জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *