এবার কোন পথে হাঁটবে আ’লীগ-বিএনপি?

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
রাজনীতি মানে নাটকীয়তা-উত্তপ্ততা। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ জোট ফের ক্ষমতায় আসে। এতে করে রাজনীতিক অঙ্গনের বড় দুটি দল বিএনপিজোট ও আওয়ামী লীগ জোটে কোন পথে এগুবে তার নিয়ে সবার মাঝে বেশ জল্পনা কল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটি কোন পথে এগুবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আর সেই প্রশ্নে দলটির অস্তিত্ব সংকট নাকি ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি দলগুলোর নতুন করে পথ চলার সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে এই পথচলার মধ্যে বিএনপি দলটি সামনে কঠিন পথের সমীকরণ নিয়ে সবার মাঝে নানা প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে। বিএনপি দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে দলের অবস্থা এমনিতে নড়বড়ে। তার উপরে একের পর এক হামলা, মামলায় দলটি বেশ কোনঠাসা হয়ে সাংগঠনিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে ঐক্যফ্রন্টের সাথে যুক্ত হয় বিএনপি দলটি। যেকারণে তারা এখন ঐক্যফ্রন্টের থাকা গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতালীগ ও বিএনপি দলটির সমন্বয়ে গঠিত এই জোট দলকে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তবে সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জোট দল মহাজোটের কাছে পরাজিত হয় বিএনপিজোট দল ঐক্যফ্রন্ট। এতে করে বিএনপি জোট দলকে ফের নতুন করে চিন্তা ভাবনা করে এগোতে হবে। রাজনীতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটি হামলা, মামলায় জর্জরিত হওয়ার ফলে তাদের অবস্থা বেশ নাজুক। তার উপরে এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে তাদেরকে আরো ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই ৫ বছরে এরুপ আরো ধকল সহ্য করতে হবে। আর সেসব ধকল সহ্য করে বিএনপি দলটি এগোতে পারবে কিনা নাকি মুখ থুবড়ে পড়বে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাদের কৌশলের উপর। রাজনীতিকে কৌশল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেদল কৌশলের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে সেদল রাজনীতিতে তত অগ্রসর হবে। উদাহরণ স্বরুপ, আওয়ামীলীগ দলটি দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল তারা। কিন্তু এরপর কৌশলগত কারণে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে আওয়ামীলীগ দলটি। কিন্তু বিএনপি দলটি এ দিয়ে দিয়ে বেশ পিছিয়ে আছে যেকারণে তারা বারবার মুখ থুবড়ে পড়বে। তাই বিএনপিতে কৌশলী ও যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ স্থানে মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে দলটির ভবিষ্যত নিয়ে এখনই সুদুর পরিসরে পরিকল্পনা করতে হবে। আর এসবের উপর নির্ভর করছে বিএনপি দলটির আগামী পথ চলা। বিএনপি দলটির একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করে অচেনা ও দুর্বল প্রার্থীদের অনেক আসনেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এতে করে এই নির্বাচনের এরুপ ভরাডুবির চিত্র দেখা গেছে। ইতোমধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি দলটির ভরাডুবির কারণ তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে এমন প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অন্যদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যেমন, ধামরাইয়ের জিয়াউর রহমান, নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম খন্দকার, সিলেটের ইনাম আহম্মেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এতে করে দলের যোগ্য প্রার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা তা বিএনপি দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর মুখে ফুঁটে উঠেছে। এছাড়া দলের বিভিন্ন কমিটিতেও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সুবধাবাদী ও সংস্কারপন্থীদের পদায়ীত করা হয়েছে। এতে করে বিএনপি দলটি দলীয় কর্মসূচি সহ আন্দোলন সংগ্রামে পিছিয়ে পড়েছে। কারণ দলের পদধারী সুবিধাদীরা নিজেদের গাঁ বাাঁচাতে ঝামেলাপূর্ণ দলীয় কর্মসূচি থেকে বিরত থেকেছে। এতে করে দল সাংগঠনিক দিক দিয়ে বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই দলকে ফের শক্তিশালী করতে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নস করা ছাড়া কোন উপায় নেই। আর দলের সুবিধাভোগী আগাছাগুলোতে ছাড়াই করতে হবে। নতুবা দলের আগামী পথ চলায় এরা ফের বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালাম-মুকুল পন্থী বিএনপি নেতারা সদর-বন্দর আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে সরাসরি কাজ করেছে। এমনকি বিএনপি প্রার্থীদের বিরোধীতা করে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে মারধার করে বের করে দিয়েছে। এসব নেতারা থাকলে বিএনপি দলটির আগামীর পথ চলায় বেশ বাধা বিঘœ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জোট দল মহাজোট টানা তৃতীয়বার ক্ষমতার আসনে বসছে। এতে করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশল অবশ্যই ভিন্ন হতে হবে। আর অগ্রিম লেভেলের নানা কৌশলে তাদের পথ চলা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা তারা বিএনপি দলটির মত বড় রাজনীতি দলের কাছে পরাজয়ের নানা সমীকরণ তৈরি হতে পারে। যেকারণে তাদেরকে রাজনীতিক কৌশলে ভিন্নতা আনতে হবে। কারণ এক কৌশলে সব পথ পারি দেয়া সম্ভবনা। তবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার চেয়ারে থাকা এই দলটি বিএনপির চেয়ে অনেকটা স্বস্তিতে থাকবে। যেকারণে তাদের পথ চলাটাও অনেকটা সুখকর বটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ দল দুটো কৌশলগত দিকে দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। সেই কৌশলে নতুনত্য এনে অথবা কৌশল পরিবর্তন করে দল দুটোকে এগোতে হবে। যদি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটির ক্ষেত্রে তেমন কোন চাপ নেই। কিন্তু বিএনপি জোট দলটিকে বেশ পরিশ্রম ও পরিকল্পনা করে কৌশলে এগোতে হবে। আর সেই কৌশলের প্রথম শর্ত হবে দলকে সাংগঠনিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করে তোলা। কোন দুর্বল দল রাজনীতিকে সফলাতা পায়না। এরপর ক্ষমতার ফেরত পাওয়ার জন্য কৌশল পরিবর্তন অথবা নতুনত্য এনে তার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আর সেই দিক নির্দেশনা অনুযায়ী দলটি পরিচালনা করতে হবে।

About ডান্ডিবার্তা

View all posts by ডান্ডিবার্তা →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *